বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

যশোরে কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ, বিশেষ রেসপন্স টিম গঠনের ঘোষণা

জেলা প্রতিনিধি, যশোর
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

যশোরে কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ,  বিশেষ রেসপন্স টিম গঠনের ঘোষণা

যশোরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, ছিনতাই বৃদ্ধি এবং কুখ্যাত আসামিদের জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। অপরাধ দমনে বিশেষ রেসপন্স টিম ও উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং কমিটি গঠনের পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং ইজিবাইক-রিকশার লাইসেন্স ব্যবস্থা কঠোরভাবে কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। 

একইসঙ্গে জেলার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মৎস্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দফতরকে মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। রোববার (১২ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভবদহসহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা সংকট গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

সভার শুরুতেই কমিটির সদস্যরা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সিনিয়র আইনজীবী দেবাশীষ বলেন, জজকোর্ট মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বস্তাভর্তি ফেনসিডিলের খালি বোতল পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং সেখানে নিয়মিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে। এমন বাস্তবতায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক বলা যায় না।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, লোকচক্ষুর আড়ালে নানা ধরনের অপরাধ বাড়ছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, শহরে ছিনতাই বৃদ্ধির বিষয়টি বাস্তব এবং কুখ্যাত অনেক আসামি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় অপরাধে জড়াচ্ছে। প্রশাসন বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

 

আশেক হাসান বলেন, উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অপরাধের ধরন বিশ্লেষণের জন্য তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি জরুরি ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে একটি বিশেষ রেসপন্স টিম গঠন করা হবে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণের জন্য ওই টিমের জন্য পৃথক হটলাইন নম্বরও চালু করা হবে।

নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং ইজিবাইক ও রিকশার লাইসেন্স ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া হাউজিং প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের বরাদ্দ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকট থাকলেও পুলিশ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ২৭ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ত্রাণ বরাদ্দ চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করা হবে এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরাসরি দুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করবেন।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আশেক হাসান বলেন, জলাবদ্ধতায় মাছের ঘের ও মৎস্যচাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাই সব কর্মকর্তাকে মাঠপর্যায়ে থেকে ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

শহরের জলাবদ্ধতা কমাতে দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার ও ঝোপ-জঙ্গল অপসারণে পৌরসভাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের ফলে এবার দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অভয়নগরের ইপিজেড এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কালভার্ট প্রশস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ড্রেনে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনাই শহরের জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি জানান, পানিবন্দী মানুষের জন্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে ত্রাণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদারের সঞ্চালনায় সভায় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও যশোর পৌরসভার প্রশাসক সৈয়দ রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, আনসার ও ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কমান্ড্যান্ট মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ক.ম/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর