প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলে নোয়াখালী জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে হাতিয়া উপজেলা। রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের রেজাল্ট শিটে দেখা যায়, হাতিয়া উপজেলা থেকে মোট ১৬১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে সদর উপজেলা, যেখানে বৃত্তি পেয়েছে ৩৮৪ জন শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেগমগঞ্জ উপজেলা, যেখানে বৃত্তি পেয়েছে ২৬৬ জন শিক্ষার্থী।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফলে দেখা যায়, হাতিয়া উপজেলায় ট্যালেন্টপুল (সরকারি) বৃত্তি পেয়েছে ৮৬ জন, ট্যালেন্টপুল (বেসরকারি) পেয়েছে চারজন, সাধারণ (সরকারি) বৃত্তি পেয়েছে ৬১ জন এবং সাধারণ (বেসরকারি) বৃত্তি পেয়েছে ১০ জন শিক্ষার্থী।
উপজেলার বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলে আব্দুল মোতালেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—দুই ক্যাটাগরি মিলিয়ে ৩৩ জন শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চরকৈলাশসহ তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মাসিক ও এককালীন আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। যা ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষা থেকে এ আর্থিক সহায়তার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে।
এদিকে ফল প্রকাশের পর উপজেলার জাহাজমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী নাজমুল আবেদীন সাদের মা নাজমুন নাহার বলেন, ‘আমার ছেলে বৃত্তি অর্জন করায় আমরা খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। তার এই সাফল্যের পেছনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরিবারের সদস্য এবং নিজের আন্তরিক পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি সব অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানাই, সন্তানদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলার দিকেও গুরুত্ব দিন।’
সামাজিক সংগঠন ‘সচেতন নাগরিক সমাজ-হাতিয়া’র নির্বাহী সদস্য আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘গতানুগতিক শিক্ষার ধারা থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং যেসব বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি পায়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কার্যকর মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইউসুফ বলেন, ‘হাতিয়া একটি নদীবেষ্টিত ও ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন উপজেলা। এমন বাস্তবতায় জেলার মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। আগামীতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে আমরা আরও আন্তরিকভাবে কাজ করব।’
প্রতিনিধি/ক.ম/




