চালকের সংকটে খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সসেবা ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজে পড়ে আছে, আবার কোথাও আউটসোর্সিং কর্মী বা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত চালক দিয়ে সীমিত পরিসরে সেবা চালানো হচ্ছে। ফলে জরুরি রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নয়টি উপজেলায় মোট ২১টি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এর মধ্যে সচল ১২টি, আর ৯টি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। তবে সচল ১২টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে নিয়মিত চালক রয়েছে মাত্র সাতটির। চালকের সংকট সবচেয়ে বেশি দাকোপ ও কয়রা উপজেলায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের পদ তিন বছর ধরে শূন্য। একটি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও চালক না থাকায় নিয়মিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্য দুটি ২০১৮ সাল থেকে অকেজো।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চালককে ছয় মাস আগে অনিয়মের অভিযোগে দিঘলিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত চালক বা আউটসোর্সিং কর্মী দিয়ে সীমিত পরিসরে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া বটিয়াঘাটা উপজেলায় দুটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য চালক রয়েছেন একজন। রূপসায় দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি সচল, অন্যটি প্রায় এক যুগ ধরে অকেজো। দিঘলিয়ায় দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি সচল। তেরোখাদায় তিনটির মধ্যে একটি সচল, বাকি দুটি যথাক্রমে ২০০৯ ও ২০১৮ সাল থেকে অকেজো। ফুলতলা ও ডুমুরিয়ায় দুটি করে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি করে সচল। পাইকগাছায় তিনটির মধ্যে দুটি অকেজো।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, চালক বদলির পর শূন্য পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাই ব্যক্তিগত আউটসোর্সিং চালক দিয়ে কোনোমতে সেবা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলা শহর থেকে সবচেয়ে দূরের উপজেলা কয়রা। সেখানে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। দ্রুত চালক নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুদীপ বালা বলেন, তিন বছর ধরে চালকের পদ শূন্য। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে ড্রাইভিংয়ে দক্ষ আউটসোর্সিং কর্মী দিয়ে সেবা চালানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
তবে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খানম দাবি করেন, জেলার কোথাও অ্যাম্বুলেন্সসেবা পুরোপুরি বন্ধ নেই। যেখানে চালক নেই, সেখানে আউটসোর্সিং কর্মীদের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শূন্য পদে চালক নিয়োগ এবং অকেজো অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কয়রার চালককে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অন্য উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




