সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১০ গ্রাম, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

জেলা প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৮ এএম

শেয়ার করুন:

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ১০ গ্রাম, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

টানা দুই দিনের ভারি বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে খোয়াই নদী। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। এতে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

পানির প্রবল স্রোতে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। হঠাৎ বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই আশপাশের গ্রামগুলোতে বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাড়িতে কোমর সমান পানি ওঠে। পরিস্থিতির অবনতি হলে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা প্রয়োজনীয় মালামাল, কাপড়চোপড় এবং গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউ স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন।

বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহেরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

পরে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র বা নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হবিগঞ্জ–মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে গেছে। সড়কের অনেক অংশ তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে সড়কটিতে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বাঁধ মেরামত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পানি বাড়তে থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম বলেন, “এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আমরা কন্ট্রোল রুম চালু করেছি এবং ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।”

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর