মন্তব্য কখনও গন্তব্য ঠেকাতে পারে না

জেলা প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২২, ০৫:৫৩ পিএম
মন্তব্য কখনও গন্তব্য ঠেকাতে পারে না

বিয়ের ঘটনাটি ছয় মাসেরও বেশি সময় আগের। আলোচনা শুরু হয়েছে সম্প্রতি। বয়স এবং শিক্ষিকা-ছাত্র সম্পর্কের বিষয়টি ছাপিয়ে আলোচনা হচ্ছে একটি উক্তি নিয়েও। ২২ বছরের কলেজছাত্র ৪০ বছরের কলেজ শিক্ষিকাকে বিয়ের ঘটনায় একটি ভিডিওতে ওই ছাত্রকে বলতে শোনা গেছে— ‘মন্তব্য কখনও গন্তব্য ঠেকাতে পারে না।’

এটি নিয়েই এখন সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে মজা বা ট্রল করছেন আবার অনেকে এটিকে সফলতার জন্য অনুপ্রেরণামূলক (মোটিভেশনাল) বাণী হিসেবেও উল্লেখ করতে চাইছেন।

মূল বিষয়টি হলো— নাটোরের গুরুদাসপুরে খাইরুন নাহার (৪০) নামে একজন কলেজ শিক্ষিকাকে বিয়ে করেছেন মো. মামুন হোসেন (২২) নামের এক কলেজছাত্র। তাদের ভাষ্য— ‘ভালোবাসার কোনো বয়স নেই, আর মন্তব্য কখনো গন্তব্যে পৌঁছাতে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।’
natore biyeযেহেতু বয়স বা অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় তাদের বিয়ের বিষয়টি নিয়ে পরিবার বা সমাজের অনেকে অনেকরকম বলছেন, তাই এমন উক্তি। নিজেদের সুখ-সফলতা অর্জনে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাই কারও কথায় তারা কর্ণপাত করতে চান না। 

জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর কাজী অফিসে গিয়ে দুজন গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর সম্প্রতি বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলো। খাইরুন নাহার গুরুদাসপুর খুবজিপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং মামুন নাটোর এন এস সরকারী কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

আরও পড়ুন: ওর সঙ্গে অনেক সুখে আছি: নাটোরে কলেজছাত্রকে বিয়ে করা শিক্ষিকা

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, এক বছর আগে ফেসবুকে শিক্ষিকা নাহারের সঙ্গে একই উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র মামুনের পরিচয় হয়। পরে তাদের দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে দুজন বিয়ের সিন্ধান্ত নেন। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বরে কাউকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের ৬ মাস পর তাদের সম্পর্ক জানাজানি হলে ছেলের পরিবার মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার থেকে এখনও বিয়ে মেনে নেননি।

বর্তমানে নাটোর শহরের একটি ভাড়া বাসায় দুজন বসবাস করছেন। এর আগে ওই শিক্ষিকা প্রথমে বিয়ে করেছিলেন রাজশাহী বাঘা উপজেলার এক ছেলেকে। পারিবারিক কলহে সেই সংসার বেশিদিন টিকেনি। প্রথম স্বামীর ঘরে একজন সন্তান রয়েছে বলেও জানা গেছে।
natore biyeজানতে চাইলে খাইরুন নাহার বলেন, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলাম। সেই সময় ফেসবুকে মামুনের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর আমাদের দুজনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থেকে ভালবাসা হয়। তারপর দুজনের সিদ্ধান্তে বিয়ে করি। সমাজে কে কী বলে, তা বড় বিষয় না। আমরা যদি দুজন ঠিক থাকি, তাহলে সব ঠিক। আমার পরিবার থেকে সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তার বাড়ি থেকে আমাদের বিয়ে মেনে নিয়েছে। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমি অনেক সুখে আছি। সারাজীবন তার সঙ্গে এভাবে থাকতে চাই। দোয়া করবেন সবাই।

মামুন হোসেন বলেন, এক বছর আগে দুজনের ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর আমাদের মধ্য ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠলে আমরা দুজনে বিয়ের সিন্ধান্ত নিই। ৬ মাস আগে কাউকে না জানিয়ে আমরা বিয়ে করি। আমার বাবা-মা মেনে নিয়েছে। নিজেদের মত সংসার গুছিয়ে নিয়ে জীবন শুরু করেছেন। আমরা দুজন অনেক সুখে সংসার করছি।

এএ