বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন, ডিএনএ টেস্টে ১৩ বছর পর মিলল সন্তানের পিতৃপরিচয়

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন, ডিএনএ টেস্টে ১৩ বছর পর মিলল সন্তানের পিতৃপরিচয়
রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত হেলাল উদ্দিনকে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে।

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় স্বামী-পরিত্যক্তা এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় হেলাল উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নুরুল কবীর রুবেল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, ডিএনএ পরীক্ষার ফলসহ অন্যান্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত হেলাল উদ্দিন বারহাট্টা উপজেলার স্বল্পদশাল গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১ মার্চ রাতে নিজ বসতঘরে দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন স্বামী-পরিত্যক্তা ওই নারী। গভীর রাতে হেলাল উদ্দিন ঘরের বাঁশের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে ঘটনা প্রকাশ করলে হত্যার হুমকিও দেন।

মামলার সাক্ষ্যে ভুক্তভোগীর ছোট মেয়ে ও পাশের ঘরের এক স্বজন জানান, তারা হেলাল উদ্দিনকে ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছেন।

ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা এবং বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও হেলাল উদ্দিন ধর্ষণের অভিযোগ ও পরবর্তীতে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুর পিতৃত্ব অস্বীকার করেন।

পরে ভুক্তভোগী নারী মামলা করেন। ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। আদালতের নির্দেশে করা ডিএনএ পরীক্ষায় বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়, জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুটির জৈবিক পিতা হেলাল উদ্দিন। মামলার প্রায় এক বছর পর ভুক্তভোগী নারী স্বাভাবিকভাবে মারা যান। বর্তমানে ওই কন্যাশিশু ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।

পাবলিক প্রসিকিউটর মো. নুরুল কবীর রুবেল বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়ায় সে আইনগতভাবে হেলাল উদ্দিনের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং পিতার সম্পত্তিসহ অন্যান্য আইনগত অধিকারের দাবিদার হবে।

তিনি আরও বলেন, "এই রায়ের মাধ্যমে শুধু ধর্ষকের শাস্তিই নিশ্চিত হয়নি, ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে একটি শিশু তার পিতৃপরিচয়, সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনগত অধিকারও পেয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।"

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর