ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আলালপুর থেকে বারুয়াখালীর সংকরদিয়া পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনি প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দ্রুত সড়কটির সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ও জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পাশাপাশি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ও ঘিওর (সিংগাইর) এলাকার মানুষও বিভিন্ন প্রয়োজনে এই সড়ক ব্যবহার করেন। বিশেষ করে জয়কৃষ্ণপুর ও বারুয়াখালী ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ উপজেলা সদর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দফতরে যাতায়াতের জন্য এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের ইটের খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি জমে পুরো সড়ক কাদাময় হয়ে পড়ে। যানবাহন চলাচলের সময় কাদা ও ময়লা ছিটকে পথচারীদের গায়ে লাগে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যস্ত এই সড়কটি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বর্ষাকালে দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। সড়কের দুই পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়ে, ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। বিশেষ করে বারুয়াখালী বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতি বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। গত চার বছর ধরে এ দুর্ভোগ সহ্য করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের আগস্টে প্রায় ৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়নকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এম ট্রেডার্স। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদার আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ফলে তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।

বারুয়াখালীর বাসিন্দা রাসেল খান বলেন, ‘আলালপুর মোড় থেকে সংকরদিয়া পর্যন্ত সড়কটি কয়েক বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক পানির নিচে চলে যায়। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ সব ধরনের যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। শুনেছি, ঠিকাদার কিছু বিল তুলে নেওয়ার পর আর কাজ করেননি। একজন ঠিকাদারের কারণে আমাদের কেন ভোগান্তি পোহাতে হবে?’
বারুয়াখালী বাজারের মুদি ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘গত এক বছর ধরে সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টি হলেই যান চলাচল ব্যাহত হয়। দ্রুত সড়কটির সংস্কার চাই। এ বিষয়ে আমাদের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
ইজিবাইকচালক ফারুক হোসেন বলেন, ‘আলালপুর থেকে বারুয়াখালী বাজার ও সংকরদিয়া পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে এত বড় গর্ত হয়েছে যে, গাড়ি পড়ে গেলে তুলতে কষ্ট হয়। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।’
২০২২ সালে টেন্ডার হওয়া প্রকল্পের ওয়ার্ক অর্ডারের অনুলিপি চাইতে নবাবগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে গেলে উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল করিম তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম বলেন, ‘সড়কটির কারণে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন। দরপত্র হওয়ার পর ঠিকাদার কাজ না করেই চলে যান। সড়কটির পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা যায় কি না, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি, খুব শিগগির পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’
প্রতিনিধি/এসএস




