শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

গভীর সমুদ্রে নেটওয়ার্ক চান জেলেরা

নিম্নচাপে উত্তাল সাগর, উপকূলে ফিরেছে শত শত ট্রলার

অলিউল্লাহ্ ইমরান, বরগুনা
প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

নিম্নচাপে উত্তাল সাগর, উপকূলে ফিরেছে শত শত ট্রলার

গভীর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরা কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বরগুনার পাথরঘাটা উপকূলে ফিরে এসেছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। এতে জেলে ও ট্রলার মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্রে নির্ভরযোগ্য মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় সময়মতো আবহাওয়ার সতর্কবার্তা না পাওয়ার সমস্যাও নতুন করে সামনে এসেছে।

উপকূল ঘুরে দেখা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা, ডালভাঙা ও পোটকাখালী এবং পাথরঘাটা উপজেলার বিএফডিসির (নতুন বাজার) খাল, পদ্মার খাল, বাদুরতলা, জিনতলা ও কাকচিড়া খালসহ বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে শত শত ট্রলার। কয়েক দিন আগেও এসব ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছিল। নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় সেগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে।

Untitled-1-copy-27

জেলেরা জানান, ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ ও অন্যান্য মাছ না পাওয়ায় অনেক ট্রলার লোকসানে পড়ে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ধারদেনা করে আবার সমুদ্রে গেলেও দুই-তিন দিনের মধ্যেই ফিরে আসতে হয়েছে। একটি ট্রলার গভীর সমুদ্রে পাঠাতে দুই থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই অর্থ উঠে আসেনি।

পাথরঘাটার ট্রলার মালিক মো. রাসেল মিয়া বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষে দুই দফা ট্রলার সমুদ্রে পাঠিয়েছি। দুইবারই লোকসান হয়েছে। পরে ঋণ করে আবার সাগরে গেলেও উত্তাল সাগরের কারণে দ্রুত ফিরে আসতে হয়েছে। এখন ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত থাকায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।’

weather-2-2607050829

জেলে কালাম মাঝি বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় সময়মতো আবহাওয়ার সতর্কবার্তা পাই না। অনেক সময় খাদ্য, বরফ ও জ্বালানি নিয়ে সমুদ্রে যাওয়ার পর বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্রুত ফিরে আসতে হয়। এতে জ্বালানিসহ প্রায় সব খরচই লোকসানে পরিণত হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে পরিবার বা প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায় না। তাই গভীর সমুদ্রে নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা চালুর দাবি জানাই।’

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার পর প্রত্যাশিত মাছ না পাওয়ায় ট্রলার মালিকেরা আগে থেকেই আর্থিক চাপে ছিলেন। বৈরী আবহাওয়া সেই সংকট আরও বাড়িয়েছে। সমুদ্রে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা থাকলে জেলেরা সময়মতো সতর্কবার্তা পেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’

সাগর-1-1-1

বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে শত শত ট্রলার ও হাজারো জেলে উপকূলে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে তারা আবার মাছ ধরতে যেতে পারবেন।

গভীর সমুদ্রে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি বেসরকারি সংস্থা পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জেলেদের জন্য যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ করছে। এই কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে গভীর সমুদ্রে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর