রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

৫১ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের তিন কর্মচারী গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

৫১ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের তিন কর্মচারী গ্রেফতার
ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের বর্তমান ও সাবেক তিন কর্মচারী গ্রেফতার।

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ও সাবেক তিন কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তাদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল (বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত), অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নূর ইসলাম।

পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতির সময় ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করেন। এ সময় চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েলে উল্লেখ থাকা অঙ্কের সঙ্গে ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, ২৬টি চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার পর টাকার অঙ্ক ও কথায় লেখা পরিমাণ পরিবর্তন করে ব্যাংক থেকে প্রায় ৫১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে কাউন্টারফয়েলে মূল অঙ্কই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে এ জালিয়াতি চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেকে অতিরিক্ত সংখ্যা যোগ করে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হতো। একই সঙ্গে কথায় লেখা অঙ্কও পরিবর্তন করা হতো। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ মার্চ এভাবে অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। পরে মূল অভিযুক্ত পার্থ সারথী পাল বদলি হয়ে অন্য উপজেলায় যোগ দিলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হয়।

ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার ইউএনও ফাহরিয়া ইসলাম অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে কার্যালয়ে ডেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাদের ফুলগাজী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় জালিয়াতির মামলা করেন।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, চেক জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। ব্যাংকের নথি ও সংশ্লিষ্ট চেকগুলো যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফেনীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. দিদারুল আলম ও বিদায়ী ইউএনও ফাহরিয়া ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর