ফেনীর দাগনভূঞায় মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের বারাহীগুনী গ্রামের মনু কাজী বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাইফুল ইসলাম, একই বাড়ির মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে আজাদ এবং একই এলাকার জেলে বাড়ির প্রভাত কুমার দাসের ছেলে নিপু কুমার দাস।
রায় ঘোষণার সময় আজাদ ও নিপু কুমার দাস আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট রাতে দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিণ বারাহীগুনী গ্রামের এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে সাইফুল ইসলাম সহযোগীদের নিয়ে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীর মাকে বাড়ি থেকে বের করে সেতুর ওপর নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন আজাদ ও নিপু কুমার দাস।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ২০১৮ সালের ১১ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী দাগনভূঞা থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দাগনভূঞা থানার এসআই আবদুর রহীম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ২৪ মার্চ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।
তিনি জানান, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সাইফুল ইসলাম ও নিপু কুমার দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। একই সঙ্গে আজাদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




