কৃষকের হালের ফলা কাদামাটি উল্টে দিতেই কাদার ভেতর থেকে লাফিয়ে উঠছে ছোট ছোট দেশীয় মাছ। আর সেই মাছ ধরতে হাতে ছোট জাল, পাত্র কিংবা পলিথিন নিয়ে ছুটছে একদল শিশু। তাদের হাসি, উচ্ছ্বাস আর দৌড়ঝাঁপে মুখর হয়ে উঠছে চারপাশ। যেন বহুদিন পর গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা শৈশবের এক চিরচেনা দৃশ্য ফিরে এসেছে।
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পানিতে ভরে উঠেছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। সেই পানিভরা মাঠেই দেখা মিলছে এই দৃশ্য। উপজেলার শিবরামপুর, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম, পাল্টাপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে কৃষকের হালচাষের পেছনে মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে গ্রামের শিশুরা।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে এমন দৃশ্য এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। মোবাইল ফোন, ভিডিও গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যস্ততায় যখন শিশুদের শৈশব ক্রমেই ঘরবন্দী হয়ে পড়ছে, তখন প্রকৃতির সান্নিধ্যে তাদের এই উচ্ছ্বাস যেন স্বস্তির এক টুকরো ছবি।
সম্প্রতি উপজেলার কাজল গ্রামের কৃষিজমিতে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকেরা হালচাষ করছেন। তাদের ঠিক পেছনেই ছোট জাল, পাত্র ও পলিথিন হাতে ছুটছে শিশুরা। হালের ফলায় মাটি উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কই, শিং, মাগুর, টেংরা, পুঁটিসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ ওপরে উঠে আসছে। শিশুরা আনন্দে সেগুলো ধরে নিজেদের পাত্রে জমা করছে।
শিবরামপুর গ্রামের শিশু রিয়াদ বলে, “হাল চলার সময় মাছ ওপরে উঠে আসে। আমরা দৌড়ে দৌড়ে মাছ ধরি। অনেক মজা লাগে।”
পলাশবাড়ী এলাকার শিশু সোহান বলে, “সকাল থেকেই মাঠে এসেছি। ছোট ছোট অনেক মাছ ধরেছি। বন্ধুদের সঙ্গে মাছ ধরতে খুব ভালো লাগে।”
বীরগঞ্জ মডেল প্রেস ক্লাবের সভাপতি উত্তম শর্মা বলেন, “কৃষকের হালচাষের পেছনে শিশুদের মাছ ধরার দৃশ্য একসময় গ্রামবাংলার খুব পরিচিত ছিল। আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার ও দেশীয় মাছের সংকটের কারণে এখন এমন দৃশ্য খুব কম দেখা যায়। এই দৃশ্য আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য, প্রকৃতিনির্ভর জীবনধারা ও শৈশবের নির্মল আনন্দের কথা মনে করিয়ে দেয়। দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও জলাভূমি সংরক্ষণ করা গেলে এমন দৃশ্য ভবিষ্যতেও টিকে থাকবে।”
প্রতিনিধি/এসএস




