সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাটের বাম্পার ফলন, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় কৃষক

আশিকুর রহমান মিঠু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাটের বাম্পার ফলন, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় কৃষক

‘তিন কানি (৯০ শতাংশ) জমিতে পাট চাষ করতে প্রতি কানিতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বিক্রির সময় ন্যায্য দাম পাই না। সরকার যদি আগে থেকেই পাটের একটি ন্যূনতম দাম নির্ধারণ করে দিত, তাহলে সেই দামে পাট বিক্রি করতে পারতাম। আমাদের দাবি, সরকার আগাম মূল্য নির্ধারণ করে দিক।’ কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাটচাষি রিপন মিয়া।

চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর ব্যস্ততা। তবে ভালো ফলনের আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে বাজারদর নিয়ে অনিশ্চয়তায়। কৃষকদের অভিযোগ, সরকার আগাম মূল্য নির্ধারণ না করায় তারা দালাল ও ফড়িয়াদের কাছে কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, প্রতি বছর সার, বীজ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও পাটের দাম সে অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক কৃষক ধীরে ধীরে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

6d1d277d-5100-4b10-9bbd-b7153b0f9188

হাওর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় ‘সোনালি আঁশ’খ্যাত পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রফতানি পণ্য ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই জৌলুস কমে গেলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষকেরা এখনো ঐতিহ্য ধরে রেখে পাট চাষ করছেন। এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও হয়েছে আশানুরূপ।

পাটচাষি ওসমান মিয়া বলেন, ‘এক কানি (৩০ শতাংশ) জমিতে পাট চাষে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। শুধু পাট কাটার শ্রমিককেই প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

c304647b-c736-4f42-9c2d-afef3c7d050d

তার অভিযোগ, অনেক কৃষক বাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় কম দামে পাট বিক্রি করে দেন। পরে ফড়িয়ারা সেই পাট গুদামজাত করে বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হন, অথচ প্রকৃত উৎপাদক কৃষক লাভের মুখ দেখেন না।

09ab7fc4-70b3-4b9f-9d15-784f77b8fd43

তিনি বলেন, ‘সরকার যদি আগাম প্রতি মণের একটি ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে প্রান্তিক কৃষকেরা উপকৃত হবেন।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার নাসিরনগর, সরাইল, বিজয়নগর, নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় মোট ৪ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে দেশি, তোষা, কেনাফ ও মেস্তা জাতের পাটের আবাদ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন ভালো হয়েছে। বাজারদরও সন্তোষজনক থাকবে বলে আশা করছি। চলতি মৌসুমে উৎপাদিত পাটের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।’

5d46e499-a582-4ffd-b8cf-cf54b5d90331

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আবু বকর বলেন, পাটের ব্যবহার বাড়াতে তাদের বিভাগ ‘অন দ্য জব’ নামে ১১ দিনের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সেখানে পাটজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘যারা পাট নিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে চান, তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি বিদেশে রফতানিরও সুযোগ তৈরি হবে।’

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর