দীর্ঘ ১৪ দিন বন্ধ থাকার পর আজ প্রাথমিকভাবে বর্হিবিভাগে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মাধ্যমে চালু হচ্ছে খুলনার সবচেয়ে বড় বেসরকারি হাসপাতাল খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বিকেলে বর্হিবিভাগ, কনসালটেশন সেন্টার এবং ডায়ালাইসিস বিভাগ চালু হবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) থেকে রোগী ভর্তি কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, হাসপাতাল চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সেখানকার চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে। আড়াইশ শয্যার এই হাসপাতালে তিনটি শিফটে ১ হাজার ৩৮৫ জন মানুষ কাজ করতেন। সেবা প্রার্থীরাও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম্যানেজার অ্যাডমিন হামিদুল ইসলাম খান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর আজ থেকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বর্হিবিভাগে রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। শুক্রবার থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিন পর্যায়ে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। হাসপাতালের পয়পরিষ্কারের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সন্ধ্যায় হাসপাতালের বিভিন্নস্থানে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যেটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার দুদিন পর কর্তৃপক্ষের নিকট তা দাখিল করা হয়। চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য খুলনাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে রোগীরা সশরীরে হাসপাতালের সামনে আসছেন। কিন্তু প্রস্তুত না থাকায় তাদের বিভিন্ন হাসাপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ১০টি সিলিন্ডার ও ৭-৮টি ট্রলি খোয়া গেছে। তাছাড়া ভর্তি থাকা অনেক রোগী টাকা না দিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। তারা যদি মানবিক কারণে সেটা ফেরত দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. মাসুদ সরদার বলেন, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ১৪ জুন ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে তাকে প্রধান করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতাল দুবার পরিদর্শনে গিয়েছি। এ ঘটনার কারণ এখন বলা সম্ভব নয়। সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়ে হাসপাতালে আগুন লাগার বিষয়টি বলা যাবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থিত খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেজমেন্ট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো ভবন। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। হাসপাতালে ভর্তি আড়াই শতাধিক রোগীকে খুলনার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে পাঠানো হয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রতিনিধি/টিবি




