শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ঢাকা

মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি

জেলা প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ১২:০৬ এএম

শেয়ার করুন:

মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি
ছবি: ঢাকা মেইল

চাঁদপুরের নদী উপকূলীয় এলাকায় আড়ৎ ও বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশের পোনা। ৩০ সেন্টিমিটারের নিচে পাঙ্গাসের পোনা ধরা ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউ মানছে না নিয়ম নীতি। বড় সাইজের পাঙ্গাস মাছ প্রতিকেজি বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা। আর এই ছোট সাইজের পাঙ্গাসের পোনা বিক্রি হয় মাত্র ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা কেজি। মৎস্য বিভাগ বলছে লজিস্টিক সাপোর্টসহ লোকবল সংকটে নদী ও আড়তে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিন চাঁদপুর শহরের ওয়ারলেছ বাজার, পালবাজার, বিপনীবাগ বাজার, মিশন রোড মোড়, বহরিয়া বাজারে এসব পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়াও লালপুর, আনন্দ বাজার, চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, বহরিয়া মৎস্য আড়ৎ ও হরিণা মাছঘাটে খোলামেলা ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা হাকডাক দিয়ে বিক্রি করতে দেখা গেছে।


বিজ্ঞাপন


শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হরিণা মাছঘাটে দেখা গেল প্রতিটি আড়তে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশের পোনা। ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ এসব বিষয়ে কারো মধ্যে ন্যূনতম সচেতনতা নেই। পাশাপাশি সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে পাঙ্গাশের পোনা রক্ষায় কোনো ধরনের অভিযানও নেই।

এই ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া বলেন, ইলিশের জালে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা ধরা পড়ে। আগে কম ছিলো এখন বেশি। ইলিশ আর পাঙ্গাশের পোনা আলাদা দরদামে বিক্রি হয়।

ঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, গত বছর এই সময় নদীতে ছোট সাইজের প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাওয়া গেছে। এবার ইলিশ না পাওয়া গেলেও ওইসব জালে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা বেশি ধরা পড়ছে। জেলেরা নদীতে নেমে যেসব মাছ পায় সবই আড়তে এনে বিক্রি করে। তবে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা না ধরাই উত্তম। কারণ বড় হলে দাম বেশি।


বিজ্ঞাপন


এই ঘাট থেকে পাঙ্গাশের পোনা কিনে শহরের বিপনীবাগ বাজারে বিক্রি করেন খুচরা ব্যবসায়ী শাহজাহান। তিনি বলেন, আজকে তিনি হরিণা ঘাট থেকে ৪ কেজি পাঙ্গাশের পোনা ক্রয় করেছেন ৬শ’ টাকা করে। এগুলো শহরে নিয়ে বিক্রি করবেন ৮শ’ টাকা কেজি দরে। এভাবে এই ঘাটে প্রতিদিন কয়েকম মণ পাঙ্গাশের পোনা কেনাবেচা হয়।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ৩০ সেন্টিমিটারের নিচে পাঙ্গাশ মাছ ধরা সব সময়ের জন্য নিষিদ্ধ। জাটকা রক্ষায় আমরা যেমন অভিযান করেছি, এখন করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আমাদের লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। তারপরেও সদর মৎস্য অফিসকে অভিযান করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হবে।

 প্রতিনিধি/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর