ফুটবল শুধুমাত্র একটি খেলা নয়, এটি অনেকের কাছে আবেগ, ভালোবাসা এবং পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই আবেগেরই ব্যতিক্রমী বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তরুণ শিক্ষার্থী তানভীর ইসলাম বাঁধন।
নিজের অর্থায়নে ৭০০ ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনার পতাকা তৈরি করে তিনি শুধু স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসেননি, ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও সৃষ্টি করেছেন নতুন উদ্দীপনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতিতে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, বাঁধনের উদ্যোগ তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে সমর্থনের নানা রকম প্রকাশ দেখা গেলেও দীর্ঘ পতাকা নির্মাণ নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

জানা যায়, ২০২২ সালের বিশ্বকাপে বাঁধন ৪০০ ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনার পতাকা তৈরি করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা ও সাড়া পাওয়ার পর এবার তিনি আরও বড় পরিসরে ৭০০ ফুট দীর্ঘ পতাকা নির্মাণ করেন। এতে স্পষ্ট হয় যে, তার এই উদ্যোগ কোনো ক্ষণিকের উচ্ছ্বাস নয়, বরং দীর্ঘদিনের সমর্থন ও ব্যক্তিগত আবেগের প্রতিফলন।
স্থানীয়দের মতে, পতাকাটি শুধু একটি দেশের ফুটবল দলের প্রতি সমর্থনের প্রতীক নয়, এটি এলাকার তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক সামাজিক সম্পৃক্ততাও তৈরি করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে পতাকাটি দেখছেন, ছবি তুলছেন এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। ফলে এটি স্থানীয় পর্যায়ে এক ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ হিসেবেও কাজ করছে।
বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা বলছেন, খেলাধুলা মানুষকে একত্রিত করার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও একটি দলের প্রতি সমর্থন মানুষকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে। বাঁধনের উদ্যোগ সেই সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
তানভীর ইসলাম বাঁধনের ব্যক্তিগত গল্পটিও অনুপ্রেরণাদায়ক। একজন সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হয়েও তিনি নিজের আগ্রহ ও ভালোবাসাকে এমনভাবে প্রকাশ করেছেন, যা তাকে জেলার অন্যতম পরিচিত আর্জেন্টিনা সমর্থকে পরিণত করেছে। তার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, কোনো কাজের পেছনে আন্তরিকতা ও সৃজনশীলতা থাকলে সেটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করে। তবে সমর্থনের আবেগ যেন সবসময় সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও খেলাধুলার প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিনিধি/এসএস




