বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ঢাকা

যশোরে অন্তঃসত্ত্বা নারীর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী ও সৎ বাবা আটক

জেলা প্রতিনিধি, যশোর
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

Jassore news
নিহতের বাড়িতে উৎসুক জনতার ভিড়। ছবি: ঢাকা মেইল

যশোরের মণিরামপুরে তাসলিমা খাতুন ময়না (২৩) নামে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পৌরশহরের মোহনপুর ওয়াবদা মোড় এলাকায় তার বাবার বাড়ির নির্মাণাধীন একটি ঘর থেকে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের মুখ ও কানে রক্তের দাগ থাকায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত তাসলিমা খাতুন ময়না ওয়াবদা মোড় এলাকার মৃত ইব্রাহিম গাজীর মেয়ে। প্রায় সাত-আট বছর আগে উপজেলার মনোহরপুর কুমারঘাটা এলাকার হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের কারণে তিন-চার দিন আগে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।


বিজ্ঞাপন


এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী হেলাল উদ্দিন এবং সৎ বাবা রফিকুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

নিহতের বোন মারুফা জানান, হেলাল উদ্দিনের এটি তৃতীয় বিয়ে ছিল এবং বিয়ের পর থেকেই ময়নাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগে হেলাল ময়নাকে তার মায়ের বাড়িতে রেখে যান এবং শুক্রবার তাকে আবার নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

মারুফা আরও জানান, ঘটনার রাতে ময়না বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে নামাজ পড়তে উঠে তার মা তাহেরা বেগম দেখতে পান, নিজের কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। পরে পরিবারের সদস্যরা দরজা খুলে ময়নাকে খুঁজতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর বাড়ির নির্মাণাধীন একটি ঘরে তার উপুড় হয়ে থাকা মরদেহ দেখতে পান।


বিজ্ঞাপন


পরিবারের অভিযোগ, খবর পাওয়ার পরও হেলাল উদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। পরে সকাল ৯টার দিকে তিনি এলাকায় আসেন। নিহতের স্বজনদের দাবি, হেলাল গোপনে আরেকটি বিয়ে করেছেন এবং নতুন স্ত্রীকে ঘরে তোলার পথ পরিষ্কার করতে ময়নাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে।

তাদের সন্দেহ, রাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডেকে ময়নাকে ঘর থেকে বাইরে নেওয়া হয়। যাতে তার মা বিষয়টি বুঝতে না পারেন, সে জন্য কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেওয়া হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডে স্বামী নিজে অথবা ভাড়াটে লোকজন জড়িত থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়নার বাবার মৃত্যুর পর তার মা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ঘটনার রাতে সৎ বাবা রফিকুল ইসলামও বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।

মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুজ্জামান বলেন, ‘তাসলিমার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।’

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের স্বামী ও সৎ বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রতিনিধি/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর