চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মনির হোসেনকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি দায়েরের মাত্র ২৬ দিনের মাথায় এবং বিচার শুরু হওয়ার আট কার্যদিবসের মধ্যে রায় হলো।
বিজ্ঞাপন
শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদুল আলম চৌধুরী বলেন, বিচার শুরু হওয়ার আট কার্যদিবসের মধ্যে আদালত রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বাকলিয়া এলাকার চেয়ারম্যানঘাটা থেকে ধর্ষণের অভিযোগে মনির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় উত্তেজিত জনতা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে রাতের অন্ধকারে কৌশলে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।
পরদিন ২২ মে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। একই দিন বিকেলে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
বিজ্ঞাপন
তদন্ত শেষে পুলিশ চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষার ফল, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দির ভিত্তিতে মাত্র পাঁচ কর্মদিবসে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত বুধবার রায় ঘোষণা করেন। বেলা ২টা ২০ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়ে বিকেল ৩টায় শেষ হয় বলে আদালত সূত্র জানায়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশুধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধগুলোর একটি। এ ধরনের অপরাধ শুধু শিশুর শারীরিক ক্ষতি করে না, বরং তার মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও স্বাভাবিক জীবনযাপন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একটি শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন সমাজের নৈতিক ভিত্তির ওপরও আঘাত হানে।
রায় ঘোষণার পর শিশুটির মা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তবে আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে আরও বেশি খুশি হতেন। তিনি বাকলিয়া এলাকার প্রতিবাদী মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, একই দিনে চট্টগ্রামে আলোচিত আরেক শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলারও রায় হয়েছে। পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
প্রতিনিধি/এআর




