বাগেরহাটের চিংড়ি ঘেরের পতিত আইল (বেড়িবাঁধ) এখন কৃষকের আয়ের উৎস। এসব আইলে চিংড়ি চাষিরা শাকসবজি চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। মাছের পাশাপাশি এ সবজির ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মধ্যে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন
প্রতিবছর বাগেরহাটের নয় উপজেলার এসব ঘেরের আইলে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার সবজি উৎপাদন হচ্ছে বলে জানান, বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

জানা গেছে, জেলার মোরেলগঞ্জ, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, চিতলমারী, রামপাল, মংলা ও শরণখোলা উপজেলায় ৮৫ সহস্রাধিক চিংড়ি ঘের রয়েছে। এসব ঘেরের আইল বা বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন পতিত ও অব্যবহৃত থাকত। তবে এসব ঘেরের আইলে এখন চাষিরা পুঁইশাক, চালকুমড়া, ঢ্যাঁড়স, পেঁপে, লাউ, টমেটো, করলা, শিম, বরবটি, বাঙ্গি, কলা, মিষ্টি কুমড়া, লালশাকসহ অন্তত ২০-২৫ রকমের শাকসবজির চাষ করছেন।

বিজ্ঞাপন
চিংড়িচাষিদের এ সবজি চাষে উৎসাহিত করতে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। এ ছাড়া চিংড়িচাষিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

মো. মশিউর রহমান নামে এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, চিংড়ি চাষিরা এ সহায়তা পেয়ে বছরের তিনটি সবজি মৌসুমে ঘেরের আইলে ২০ রকমের শাকসবজির চাষ করেন। একইসঙ্গে ঘেরে চিংড়ি চাষও অব্যাহত রেখেছেন।

এনায়েত ঘরামি নামে এক সবজিচাষি জানান, তারা তিন-চার বছর ধরে ঘেরের আইলে নতুন পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। আইলে শাকসবজির চাষ করে ভালো ফলনও পাচ্ছেন। চিংড়ির পাশাপাশি বিনা খরচে সবজির চাষ হওয়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। এ সবজির চাষ দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।

বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ঘেরের আইলের সবজিকে কেন্দ্র করে কচুয়ার গজালিয়া, কচুয়া, মঘিয়া, ধোপাখালি, সাইনবোর্ড, বাঁধার, সদরের সি অ্যান্ড বি বাজার, চুলকাঠি, ষাটগম্বুজ, ব্যারাকপুর, পোলেরহাট, বেমরতা, চিতলমারী সদর, খাসেরহাট, খালিশপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বাজার গড়ে উঠেছে। এখান থেকে প্রতিদিন অন্তত ২০ লাখ টাকা মূল্যের সবজি রাজধানীসহ বিভিন্ন বড় শহরে যাচ্ছে।

বাগেরহাট সদরের সি অ্যান্ড বি বাজার কথা হয় ঢাকা কারওয়ান বাজারের কাচামাল ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের সাথে। তিনি জানান, বাগেরহাটের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় সবজির বাজার। এখান থেকে প্রতি বাজারে শতাধিক ট্রাক যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, এ এলাকায় ব্যাপকহারে রপ্তানিযোগ্য চিংড়ির আবাদ হওয়ায় সবজি চাষের জমির পরিমাণ কমে গেছে। মৎস্য ঘেরের আইলে সুষ্ঠুভাবে সবজি চাষ উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগের পাশাপাশি কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও কাজ করে যাচ্ছে। সঠিকভাবে পরিকল্পনা নিয়ে সহায়তা করতে পারলে, এ অঞ্চলের লক্ষাধিক চিংড়ি ঘেরের আইলে চাষের মাধ্যমে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার সবজির উৎপাদন সম্ভব হবে।
প্রতিনিধি/ এজে




