বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

সিলেটে জাল দলিল চক্রের ২ সদস্যকে কারাদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি, সিলেট
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম

শেয়ার করুন:

সিলেটে জাল দলিল চক্রের ২ সদস্যকে কারাদণ্ড
সিলেটে জাল দলিল চক্রের ২ সদস্যকে কারাদণ্ড

সিলেটে জাল দলিলের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টার অভিযোগে দুই দালালকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতর মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এ ঘটনা ঘটে।


বিজ্ঞাপন


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড মোহাম্মদ আলীম উল্লাহ খান।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— কামরুল ইসলাম (৪৮) ও তার সহযোগী মিটু (৪০)।

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে ২ যুবক জাল দলিল প্রস্তুত করে জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রার মিনহাজ উদ্দিনের কাছে জমা দেন। দলিল পর্যালোচনার সময় সন্দেহ হলে সাব-রেজিস্ট্রার তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করে রাখেন। পরে সিলেট মহানগর রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড মোহাম্মদ আলীম উল্লাহ খানকে জানানো হলে তিনি উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত জাল দলিল প্রস্তুত ও ব্যবহারের অপরাধে কামরুল ইসলাম ও মিটুকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এসিল্যান্ড মোহাম্মদ আলীম উল্লাহ খান বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জালিয়াত চক্র কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে জাল দলিল তৈরি করে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা করছিল। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। যারা এমন জালিয়াতি করতে পারে, তারা প্রবাসী বা জমির মালিকদের আস্থার সুযোগ নিয়ে আরও বড় ধরনের প্রতারণা করতে পারে।


বিজ্ঞাপন


তিনি জানান, বিষয়টি ধরা পড়ার পর দুজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মূল অভিযুক্তকে দুই মাস ও তার সহযোগীকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলাও করা হবে।

এসিল্যান্ড বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ যেই জড়িত থাকুক, অপরাধ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিতভাবে জেলা রেজিস্টার (ডিআর) অফিস বা প্রশাসনের কাছে দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের জমি রাষ্ট্রের কাছে আমানত। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা কেয়ারটেকারের ওপর দায়িত্ব দিলেও জমির মালিকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে, জমির খাজনা পরিশোধ ও এসিল্যান্ড বা তহশিল অফিসে তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে কেয়ারটেকাররাই ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল দলিল তৈরি করে থাকে। এতে জমি নিরাপদ আছে কি-না, তা সহজেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর