মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ঢাকা

প্রসূতিদের স্বাস্থ্যসেবায় আস্থার নাম দাগনভূঞা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩১ এএম

শেয়ার করুন:

প্রসূতিদের স্বাস্থ্যসেবায় আস্থার নাম দাগনভূঞা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান বৃদ্ধি ও আন্তরিক সেবা পাওয়ায় সুফলভোগীদের আস্থা অর্জন করেছে। বিশেষ করে উপজেলায় প্রসূতি সেবায় আস্থা ও বিশ্বাসের ঠিকানায় পরিণত হয়েছে সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়াও ইনডোর, আউটডোর ও জরুরি বিভাগের সেবায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন হওয়ায় উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষের ভরসা অর্জন করেছে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

জানা যায়, ১৯৯৬ সালে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থাপিত হয়। এরপর থেকেই হাসপাতালটির কর্মচারী সংকট, পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পথ্য না পাওয়াসহ নানা অব্যাবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সেবা দিয়ে আসছিল। নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও কখনো কখনো উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সৃজনশীলতা আর আন্তরিকতায় হাসপাতালটি জেলা পর্যায়ে সুনামের অধিকারী হয়। বিশেষ করে গর্ভকালীন প্রসূতি সেবায় উপজেলা পর্যায়ের সরকারি এই হাসপাতালটি বেশ কয়েকবার জেলা পর্যায়ে শিরোপা অর্জন করেছে।


বিজ্ঞাপন


সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হাসপাতালে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে ৩ হাজার ৩৮৪ জন প্রসূতি সেবা নিয়েছেন। তন্মধ্যে ৪৪ জন সিজার, ৩৭৫ জন নরমালে সন্তান প্রসব ও ২ হাজার ৮১৯ জন বিভিন্ন সময়ে আউটডোর সেবা গ্রহণ করেছেন। বাকি ১৪৬ জন রোগীকে নানা জটিলতায় জেলা ও বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়াও হাসপাতালটিতে নিয়মিত মা ও গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ, টিকা, পুষ্টি নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। গর্ভকালীন সেবার প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা, গর্ভাবস্থার জটিলতা দ্রুত শনাক্ত করা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ দেওয়া এবং নিরাপদ প্রসবের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়গুলো সেবাগ্রহিতাদের অবহিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সচেতনতামূলক এ কার্যক্রমকে সেবাগ্রহিতারা ইতিবাচক মনে করে থাকেন।  

সেবা নিতে আসা প্রসূতি ফেরদৌস আক্তার বলেন, দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত বেশিরভাগ রোগীই নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। এই হাসপাতালের ডাক্তাররা আন্তরিক, সেবিকারাও সাধ্যমত চেষ্টা করেন। সেই কারণে উপজেলার প্রসূতিদের প্রথম পছন্দ থাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা বলেন, একজন প্রসূতি বাচ্চা গ্রহণের পূর্ব থেকেই নানা নিয়মের মধ্য দিয়ে সময় পার করতে হয়। বাচ্চা পেটে আসার পর থেকে প্রয়োজনীয় সচেতনতা ও নিয়মিত চেকআপে থাকতে হয়। আমাদের হাসপাতালে প্রসূতিদের জন্য সকল সার্ভিস নেই। তারপরও যতটুকু আছে সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টায় আমাদের কমতি নেই। এ হাসপাতালে এ্যানেসথেসিস্ট নেই। জরুরি সিজার প্রয়োজন হলে অনকলে এ্যানেসথেসিস্ট আনতে হয়। কখনো কখনো রোগীদের অবস্থা বুঝে জেলা অথবা অনত্র রেফার্ড করতে হয়।


বিজ্ঞাপন


দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সানজিদা মাহবুব জানান, আমাদের হাসপাতালে শুধু মাতৃত্বকালীন সেবা নয়। এখানে আউটডোর-ইনডোর সকল সেবার মান বৃদ্ধি করতে সবাই মিলে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। এ সীমাবদ্ধতাকে মাথায় রেখে সক্ষমতার পুরোটাকেই উপজেলার মানুষের জন্যও কাজে লাগাতে চাই। বিশেষ করে প্রসূতি সেবায় এ হাসপাতালটিকে একটি মডেল হাসপাতালে পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রতিনিধি/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর