অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার দুইদিন পর নদী থেকে চালক নাজমুল হোসেনের (২৫) বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে নগরীর কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড় থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহকারী কমিশনার অলোক কান্তি শর্মা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত শনিবার (১৩ জুন) সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। নিখোঁজের একদিন পর রোববার নিহতের বাবা আব্দুল রশিদ মোল্লা বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
নিহত নাজমুল হোসেন বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাকরকাঠি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রশিদ মোল্লার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড়ে একটি বস্তায় অর্ধেক বন্দি অবস্থায় মরদেহটিকে ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। তারপর বিষয়টি বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে জানায়। পুলিশের একটি দল বস্তাবন্দি অবস্থায় নাজমুলের মরদেহটি উদ্ধার করে বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে নেয়।
বিজ্ঞাপন
নিহতের স্ত্রী নীপা বেগম বলেন, গত শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন নাজমুল। শনিবার সকাল ১০টার দিকে নাজমুল বাড়িতে এসে সন্তানকে দেখে যান। এরপর দুপুর থেকে নাজমুলের একাধিকবার ফোনে কল দেওয়া হলে রিসিভ করেননি তিনি। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি স্বজনরা।
নিহতের স্ত্রী নীপা আরও বলেন, রাতে আমাদের নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর থেকে আর তার খোঁজ পাইনি। ওর কোনো শত্রু ছিল না। তাহলে কেন এভাবে ওকে মেরে ফেলা হলো?
এ ঘটনায় রোববার (১৪ জুন) নিহতের বাবা আব্দুল রশিদ মোল্লা বাদী হয়ে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহকারী কমিশনার অলোক কান্তি শর্মা জানান, সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রতিনিধি/এসএস




