মাদক বিক্রয় ও সেবনের প্রতিবাদ করায় মো. আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৭) নামে এক কিশোরকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হারুন অর রশিদ (৪২) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ৩ দিনের রিমান্ড শেষে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন রাতে মাদক সেবনকারী হারুন মিয়া (২৬) ও তার সহযোগীরা মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় কিশোর আরাফাত হোসেন ফাহিম তাদের কাজে বাধা প্রদান করলে মাদক কারবারিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত হারুন অর রশিদকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে সে নিজে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ওই স্কুলছাত্রের মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাতজনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে, বুধবার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। গ্রেফতার হারুন সেনবাগের দেবিসিংহপুর গ্রামের জোড়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
প্রতিনিধি/এসএস




