যশোর শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে এবার ভ্যান ও রিকশা চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী ১ জুলাই থেকে পৌরসভার অনুমোদন ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো ভ্যান বা রিকশা শহরে চলাচল করতে পারবে না।
একই সঙ্গে নিবন্ধনবিহীন ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১৪ জুন) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। সভায় যানজট নিরসনকে প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, যশোর শহরে যানজটের অন্যতম কারণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলকারী ভ্যান ও রিকশা। বর্তমানে পৌরসভার নিবন্ধিত ভ্যান-রিকশার সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার ৭০০টি। এর বাইরে বিপুলসংখ্যক অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে, যা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি জানান, এখন থেকে শুধু যানবাহনের নিবন্ধন থাকলেই হবে না, চালকেরও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ রাস্তায় নামলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ট্রাফিক পুলিশ ও পৌরসভার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ভ্যান ও রিকশা চালকদের জন্য ৭ থেকে ১০ দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে যোগ্য চালকদের লাইসেন্স প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে মাইকিং ও গণসচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথ চিহ্নিত করে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কোন সড়কে কোন ধরনের যানবাহন এবং কোন সময়ে চলাচল করবে, সে বিষয়ে একটি সমন্বিত রূপরেখা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো এবং সড়কের দুই পাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান জোরদার করা হবে।
স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও যশোর পৌরসভার প্রশাসক সৈয়দ রফিকুল হাসান জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযান শুরু হবে। এ সময় নিবন্ধন ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শহরের যানজট কমে গেলে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়বে এবং নগরজীবনে স্বস্তি ফিরবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হোসেন সাফায়াত, ৪৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক সোহেল আল মাহমুদ, র্যাবের পুলিশ সুপার রেজাউল হক, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।
প্রতিনিধি/এএইচ




