খরস্রোতা পদ্মা নদী নাব্যতা হারিয়ে মরুভূমির বালুচরে রূপ নিয়েছে। চারিদিকে পলি জমে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ বালুর চর। সেই বালুচরে জেগে উঠেছে কৃষকের হাতের ছোঁয়ার সোনালি চিনাবাদাম। যতদূর চোখ যায় মাঠের পর মাঠ, সবুজ বাদামের খেত। নাটোরের লালপুরে পদ্মা চরে এখন বাদাম তুলতে ব্যস্ত রয়েছে স্থানীয় কৃষকরা।
খরচ কম, অধিক উৎপাদন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে সোনালি চিনাবাদাম। অনেক কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। ফলে দিনে দিনে চরে এ বাদাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার তিলোকপুর, নিমতলী, গৌরীপুর, চর জাজিরা, মোহরকয়া, বিলমাড়ীয়া ও নওশারা চর এলাকায় বিস্তীর্ণ বালুচর জুড়ে সবুজ বাদামের খেত। এসব এলাকায় ব্যাপক আকারে চিনাবাদাম চাষ হয়েছে। অনেকে জমি থেকে বাদাম তুলছেন, কেউ কেউ সেই বাদাম বাড়িতে নিয়ে গাছ থেকে বাদাম বুটছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী, লালপুর, সদর ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের পাঁচটি কৃষি ব্লকের প্রায় ৩ হাজার ৭৫৪ হেক্টর চরাঞ্চলের মধ্যে ৪৬৫ হেক্টর জমিতে বারি চিনাবাদাম- ৮ ও ৯, ঢাকা চিনাবাদাম-১ এবং বিনা চিনাবাদাম-৮ জাতের আবাদ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে।

ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কৃষক রবি হোসেন জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছেন। বীজ কেনা, রোপণ ও ফসল উত্তোলনসহ মোট
বিজ্ঞাপন
খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় বাজারদর অনুকূলে থাকলে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করার আশা করছেন তিনি।
আরেক কৃষক আব্বাস উদ্দিন জানান, পদ্মার বালুচরে অন্য ফসল তেমন ভালো হয় না। কিন্তু চিনাবাদাম খুব ভালো হয়। সার, কীটনাশক কিংবা সেচের তেমন প্রয়োজন হয় না। আবার পাইকাররা জমি থেকেই বাদাম কিনে নেয়। ফলে বাড়তি পরিবহন খরচও নেই। প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৪ মণ পর্যন্ত ফলন পেয়েছি। এ বাদাম চাষে এখন অনেক কৃষক আসছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, চরাঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের চিনাবাদাম চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হওয়ায় আগামী বছর এ অঞ্চলে চিনাবাদামের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।
প্রতিনিধি/এসএস




