নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের সরকারি খাস জায়গায় গড়ে ওঠা বেদে পল্লীর আর দশটা সাধারণ ঝুপড়ি ঘরের মতোই একটি ঘর। কিন্তু ভেতরে পা রাখলেই চোখ কপালে ওঠার দশা! বাঁশ আর চালের ছাউনির আড়ালে চলছে এক রাজকীয় ও বিলাসবহুল জীবনযাপন। বসানো হয়েছে আধুনিক এয়ারকন্ডিশন (এসি)।
শুধু তাই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্রেতাদের গতিবিধি নজরদারি করতে পুরো আস্তানাকে ঘিরে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরাও। প্রযুক্তির এমন অভিনব অপব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে মাদক ব্যবসা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাজকীয় মাদক আস্তানার মূলহোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫) নামের এক নারী। চাটখিল থানা পুলিশ ইতিপূর্বে তাকে সাতটি মাদক মামলায় অন্তত ছয়বার ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালেও প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি আবারও একই ব্যবসা শুরু করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে খোলস বদলান এই মাদক সম্রাজ্ঞী। একসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতার নাম ভাঙিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় তিনি এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ। এই অভিনব মাদক আস্তানার কারণে চাটখিলের ছাত্র ও যুবসমাজ এখন ধ্বংসের মুখে
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চাটখিল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বি কে হানিফ বলেন, ‘একজন মাদক কারবারির কাছে পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় মানুষ- সবাই অসহায়। পুলিশ বা বহিরাগত কারও উপস্থিত টের পেলে তারা দলবেঁধে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বের হয়ে আসে। ববিতার এত পাওয়ারের উৎস খুঁজে বের করা দরকার। তাকে যারা পেছনে থেকে সহয়তা দিচ্ছে, তাদের মূলোৎপাটন করতে হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, সব বয়সের মানুষেরা এখানে মাদক ক্রয় বিক্রয়ের জন্য আসেন। দূর-দুরান্ত থেকে লোকেরা এখানে এসে মাদক নিয়ে যান এবং অনেকে এখানে বসে সেবনও করেন। তার ভয়ে সাধারণ এলাকার মানুষেরা অনেক সময় কথা বলতে ভয় পান।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানায়, এই নারী মাদক কারবারি যত বারই পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন, প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও কারবার চালিয়ে গেছেন। বিভিন্ন সময় ববিতাকে আটক করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা হামলার শিকার হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, তার নামে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তাকে অতি সম্প্রতি আটকও করা হয়েছিল। তবে তার এরকম জীবন যাপন সম্পর্কে ধারণা ছিল না।
এদিকে এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে এবং এই অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
প্রতিনিধি/এএইচ




