পদ্মা ও মধুমতি সেতু চালুর পর ঢাকা-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। তবে এই মহাসড়কের ভাটিয়াপাড়া-বেনাপোল অংশটি এখনও প্রশস্ত না করায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। গত তিন বছরে শুধু নড়াইল-বেনাপোল মহাসড়কেই ৭৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪৫ জন নিহত এবং অন্তত ১৫০ জন আহত হয়েছেন। খানাখন্দে ভরা সড়কটিতে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের কয়েক লাখ মানুষকে, তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। ফলে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই মেগা প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পেতে ভাটিয়াপাড়া-বেনাপোল অংশটি দ্রুত প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাস মালিক ও শ্রমিকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে পার হওয়ার পর নড়াইল-বেনাপোল সড়কের প্রায় ৭০ কিলোমিটার অংশ অত্যন্ত সরু। এই সরু সড়কেই এখন দিন-রাত চলছে তীব্র যানজট ও প্রতিযোগিতা। যানবাহনগুলো ক্রসিং কিংবা ওভারটেকিং করার সময় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় চাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে বা অন্য গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ছে। ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে প্রাণহানি, অন্যদিকে পঙ্গুত্ববরণ করছেন অনেকে। স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ৭০ কিলোমিটার সড়ক অবিলম্বে চার লেনে বা পর্যাপ্ত প্রশস্ত না করলে দুর্ঘটনা কমানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
বিজ্ঞাপন

সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, পদ্মা ও মধুমতি সেতু চালুর পর ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৭ জুন পর্যন্ত (গত তিন বছরে) নড়াইল-বেনাপোল মহাসড়কে ছোট-বড় মোট ৭৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্পটেই কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৪৫ জন। আর গুরুতর আহত হয়ে ১৫০ জন পঙ্গু হাসপাতালের শয্যায় কিংবা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগের স্বার্থে এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও প্রশস্ত করা এখন সময়ের দাবি।
বাসচালক পটু শিকদার বলেন, ওভারটেকিং কিংবা ক্রসিংয়ের সময় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাচ্ছে অথবা অন্য গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। সড়কটির এই অংশ চার লেনে উন্নীত না করা হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে না।
বিজ্ঞাপন

নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাংধারণ সম্পাদক আলী হাসান বলেন, পদ্মা ও মধুমতি সেতুর কারণে আমাদের যাতায়াত অনেক সহজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাস্তা অত্যন্ত সরু হওয়ায় সেই সুযোগ-সুবিধা অনেকটাই নষ্ট হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পথচারিরা ভোগান্তিতে পড়েন, রাস্তায় চলাচলকারি জনগণ ও আমাদের শ্রমিক ও যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। আমরা অবিলম্বে এই রাস্তা প্রশস্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, নড়াইল জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক হলো এই ভাটিয়াপাড়া-বেনাপোল সড়কটি। বর্তমানে এটি মাত্র ২৪ ফিট প্রশস্ত।
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, হঠাৎ করে ব্যস্ততা ও যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সাময়িক সুরক্ষার জন্য আমরা পর্যাপ্ত সাইন-সিগন্যাল ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার আয়োজন করেছি। তবে আশার কথা হলো, চলতি বছরের শেষের দিকেই আমরা এই সড়কটি স্থায়ীভাবে প্রশস্ত করণের কাজ শুরু করতে পারব।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা-মাওয়া-নড়াইল-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের কালনা এলাকায় মধুমতি নদীতে দেশের প্রথম ছয় লেনের ‘মধুমতি সেতু’ উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকেই ঢাকা, যশোর, বেনাপোল, কলকাতা, সাতক্ষীরা, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন নড়াইল রুট ব্যবহার করছে। কিন্তু সেতুর সংযোগ সড়কগুলো আধুনিক ও প্রশস্ত হলেও ভেতরের মূল সড়কটি আগের মতোই সরু রয়ে গেছে।
প্রতিনিধি/টিবি




