বরগুনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক ঘটনায় দুই নারীসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে উদ্ধার করা পাঁচটি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বরগুনা সদর উপজেলার আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রাম থেকে কনা (৩০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চিরকুটে পারিবারিক কারণে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
একই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার নলী এলাকায় নিজ বাসা থেকে ৯৩ বছর বয়সী সালেহা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বজনদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এদিকে, বামনা উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকায় চাচার বাড়ি থেকে আবির হোসেন এহসান (১৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, শনিবার সকালে পাথরঘাটা পৌর শহরের ইমান আলী (৩৫) সড়ক এলাকার নিজ বাড়ির সামনে থেকে অটোরিকশাচালক মিজানুর রহমানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এর আগে, শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পাতাকাটা এলাকায় স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ইব্রাহীম কালু ওরফে বস্তি কালু (২৩) নিহত হন। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, উদ্ধার করা মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরাত-ই-খুদা বলেন, উদ্ধার হওয়া সব মরদেহের ঘটনা একই ধরনের নয়। এর মধ্যে আত্মহত্যা, গণপিটুনি এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও রয়েছে। প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। পাথরঘাটার একটি ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকদিন আগে উদ্ধার হওয়া মস্তকবিহীন মরদেহের ঘটনায়ও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




