শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ঢাকা

শুক্রবার রাতের সেই ‘ভয়ংকর অভিজ্ঞতা’ জানালেন ক্রিকেটার নাঈম

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

Naim
মূল ছবিতে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ক্রিকেটার নাঈম। ইনসেটে থানায় নেওয়ার পর তার অবস্থা

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে পুলিশের মারধর ও হেনস্তা করার ঘটনা বড়োসড়ো বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে ঠিক কী ঘটেছিল তার সঙ্গে, সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন তিনি, বিচারও চেয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটের ফরিদাপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন এই ক্রিকেটার।


বিজ্ঞাপন


জানা যায়, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বাসায় ফেরার পথে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নাঈমকে মারধর ও হেনস্তা করে পুলিশ। পরে তাকে থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ।

সে ঘটনা জানিয়ে নাঈম বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা আমাকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে ফেলে, তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম। তখন সেখানে জড়ো হওয়া ১০০ থেকে ১২০ জনের মতো সমর্থক ভাইয়ারা না থাকলে ঘটনাটি অন্যরকম হতো।’

সেই সমর্থকদের বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে এই ক্রিকেটার বলেন, ‘পুলিশ যখন আমাকে খুলশী থানায় নিয়ে যায়, তখন তাদের অনুরোধ করি। ভাইয়ারা (সমর্থক) রাতে লালখান বাজার থেকে খুলশী থানায়ও আসেন আমার সঙ্গে। তাই অন্য কিছু ট্রাই করতে পারেনি।’

N


বিজ্ঞাপন


ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে নাঈম বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। অন্তত ১০ জন মানুষের উপকার হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি সাদাসিধে জীবনযাপন করি। ঘটনার দিন পুলিশ সিএনজিতে আমার জিনিসপত্র তল্লাশি করেনি। তারা চাইলে করতে দিতাম। সিএনজিতে যখন তোলা হয়, আমি জানতাম না আমার গলা চেপে ধরবে। তখন আমি ভয় পেয়ে গেছি। পরে থানায় আমার সঙ্গে থাকা পিন পর্যন্ত তাদের দেখিয়েছি।’

নাঈম বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ভাই ফোন দেওয়ায় কাজ হয়েছে। তিনি যখন ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন আমি কথা বলতে চাইলে ওসি আমাকে আঙুল দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেন।’

নিজেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত উল্লেখ করে সাংবাদিকদের নাঈম বলেন, ‘আমি একটু একা থাকতে চাইছি।’

এর আগে শুক্রবার রাতে থানায় সাংবাদিকদের নাঈম জানান, রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ অটোরিকশাটিকে থামার সংকেত দেয়। এরপর চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয়। 

পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। একপর্যায়ে একটি অটোরিকশায় করে নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাকে হেনস্তা করা হয়। পরে বিসিবির কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান।

এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী। 

এর আগে শুক্রবার রাতেই এই দুই পুলিশ সদস্যকে খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।

এছাড়া ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অভিযোগে এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সিএমপি। 

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর