শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ধর্ষণ মামলায় শিবিরনেতা জিসান গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা 
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

ধর্ষণ মামলায় শিবিরনেতা জিসান গ্রেফতার
সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান। ছবি: প্রতিবেদক

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগে করা মামলায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান। 

পুলিশ সুপার জানান, দাউদকান্দি থেকে শিবিরনেতা জিসান প্রধান অপহৃত হননি। এক নারীর করা ধর্ষণের অভিযোগ ও বিয়ের চাপ এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। 


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, গত ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হয়েছেন বলে ১২ জুন দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অপহরণের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। জিসানকে উদ্ধারে জেলা পুলিশের একাধিক দল মাঠে নামে। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে দাউদকান্দি এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশ সুপার জানায়, অনুসন্ধানে আমরা জানতে পারি, গত ২০ মে দাউদকান্দি এলাকায় জিসানের ভাড়া বাসায় ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে বিভিন্ন সময়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জিসান তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন। এমনকি গর্ভপাত না করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানায়, প্রাণনাশের আশঙ্কায় একসময় তরুণী গর্ভপাত করাতে রাজি হন। এরপর জিসান  গর্ভপাতের ওষুধ সংগ্রহ করে তরুণীকে খাওয়ান। পরবর্তীতে গর্ভপাত হলে, তরুণী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন।


বিজ্ঞাপন


পুলিশ সুপার আরো জানায়, তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, বিয়ের বিষয়ে চাপের মুখে পড়ে জিসান ১২ জুন বিয়েতে সম্মতি জানান। তবে বিয়ে এড়ানোর উদ্দেশ্যে ১১ জুন রাত ৮টার পর তিনি নিজেই আত্মগোপনে চলে যান এবং পরবর্তীতে নিজের নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়ে স্বজনদের মাধ্যমে থানায় জিডি করান।

পুলিশের অনুসন্ধানের একপর্যায়ে লাকসাম থানা এলাকার স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহযোগিতায় শুক্রবার রাতে আত্মগোপনে থাকা জিসানকে লাকসাম জংশন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় ভুক্তভোগী তরুণী থানায় উপস্থিত হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দাউদকান্দি থানায় মামলা করেন। এ মামলায় মোট আসামি চারজন। মামলায় ভ্রুণ নষ্টে সহায়তাকারীদেরও আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার।

পুলিশ সুপার জানান, জিসান বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

জিসান প্রধান (২৮) ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি/ক.ম/ 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর