লক্ষ্মীপুরে ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া মাঈন উদ্দিনকে বেদম পেটানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। একই সময় হামলাকারীরা শিক্ষার্থী মাঈন উদ্দিনের বাবার দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে। মাঈন উদ্দিন স্থানীয় হোসেনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
সন্তানের ওপর হামলা ও নিজ দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী দোকানি হারুন।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সদর মডেল থানার পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এ.এসআই) জিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী (দোকানি) হারুনুর রশিদ লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার (৮ জুন) সকাল-সন্ধ্যা এবং মধ্যরাতে সদর উপজেলার তেওয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নের আঁধার মানিক গ্রামে ভুলু চেয়ারম্যানের মাছের ফিশারি সংলগ্ন হারুনের চায়ের দোকানের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, চা-দোকানি হারুনের দোকানে দীর্ঘদিন ধরে বাকি খেয়ে টাকা দিচ্ছে না আঁধার মানিক গ্রামের বেলালের ছেলে রাজু। দোকানি হারুন বাকি টাকা চাইলে রাজুর সাথে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা উভয়পক্ষকে শান্ত করে। রাজু গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। সন্ধ্যার দিকে রাজুর ছোট ভাই সাজু ভাড়াটিয়া লোকবল নিয়ে হারুনের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। হারুন দোকানে না থাকায় তার স্কুল পড়ুয়া ছেলে মাঈন উদ্দিনকে বেদম মারধর করে। ওই-রাতে হারুনের দোকানে গভীর রাতে কে-বা কারা লুটপাট করে।
আহত শিক্ষার্থী মাঈন উদ্দিন জানান, আমার বাবার সাথে পাওনা টাকা নিয়ে রাজুর সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এ জের ধরে তার ভাই সাজু ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসবাহিনী দিয়ে আমার উপরে হামলা চালিয়ে দোকান লুটপাট করে। আমাকে মৃত ভেবে তার চলে যায়।
বিজ্ঞাপন
চা-দোকানি হারুনুর রশিদ বলেন, আমার দোকানে বাকি খেয়ে দীর্ঘদিন থেকে রাজু টাকা না দেওয়ায় তার কাছে টাকা চাইলে সে আমার সাথে তর্কবিতর্ক জড়িয়ে পড়ে। ঘটনার দিন দুপুরে ক্ষিপ্ত হয় রাজু। ওই-দিন সন্ধ্যায় তার ভাই সাজু ভাড়াটিয়া লোকবল নিয়ে আমার দোকানে হামলা করে। আমাকে না পেয়ে আমার ছেলেকে দোকান থেকে বের করে বেদম মারধর করে। মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে দোকানে সামনে ফেলে চলে যায়।
অভিযুক্ত রাজুকে গিয়ে তার বাড়িতে পাওয়া যায়নি, তবে তার মা রহিমা বেগম ও বাবা বেলাল ভিন্ন কথা বলেন, তিনি জানান, হারুনের দোকানে আমার ছেলে ৩০০ টাকা বাকি করে। টাকা না দেওয়ায় হারুন আমাদের বাড়িতে হামলা করে।
প্রতিনিধি/এসএস




