মাদারীপুরে শখের বসে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চালাচ্ছে শিশু-কিশোররা। আঞ্চলিক সড়ক ছাড়িয়ে বন্ধুদের নিয়ে তাফালিং করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মহাসড়কেও। ট্রাফিক আইন না মানায় বেপরোয়া গতিতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। হেলমেড ব্যবহার না করায় হচ্ছে প্রাণহানি।
জেলা প্রশাসন বলছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের এমন যানবাহন চলানোতে বাড়ছে কিশোর অপরাধও। পুলিশের দাবি, শুধু আইন দিয়ে শিশু-কিশোরদের আটকানো সম্ভব নয়, প্রয়োজন গণসচেতনতা।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মোল্লাকান্দি গ্রামের আকরাম বেপারীর ১৫ বছরের ছেলে ইয়াসিন। অসুস্থ রোগী নিয়ে ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। হরহামেশা প্রতিনিয়তই মহাসড়কে গাড়ি চালাচ্ছে সে।
এদিকে ১০ বছরের এক শিশু তার দুই বন্ধুকে নিয়ে ঝড়ের গতিতে চালাচ্ছে মোটরসাইকেল। নেই কারও হেলমেট। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে প্রশ্ন করলে উত্তরও দিতে পারছে না এই শিশু।
এমনই প্রতিদিনই জেলার মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে শখের বসে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চালাচ্ছে শিশু-কিশোররা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব যানবাহন চালাচ্ছে তারা। মানছে না ট্রাফিক আইন। এতে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
জেলা প্রশাসনের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্কদের এমন যানবাহন চলানোতে বাড়ছে কিশোর অপরাধ। এদিকে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিমাসে ৬০০-৭০০ মামলা দিচ্ছে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলার ট্রাফিক পুলিশ। তবুও কমছে না এমন অপরাধ। পুলিশ বলছে, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবারের পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে জনপ্রতিনিধিদেরও।
বিজ্ঞাপন
জানা যায়, স্কুল-কলেজ পড়ুয় ১০-১৬ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের দখলে জেলার অধিকাংশ সড়ক। এদের অধিকাংশের বাবা প্রবাসী হওয়ায় সহজেই যানবাহন চালানোর সুযোগ পাচ্ছে তারা।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর গড়ে এমন যানবাহনে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে অন্তত ১৫-২০ জন। পঙ্গু হয়েছে অনেকেই।
১৫ বছর বয়সি প্রাইভেটকার চালক ইয়াসিন বেপারী জানান, সে তার বাবার কাছ থেকে প্রাইভেটকার চালানো শিখেছে। দুই থেকে তিন মাস ধরে মহাসড়কে বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াত করছে ইয়াসিন।
সড়কে শিশু-কিশোরদের যানবাহন চালানো নিষেধ, তারপর কেন চালাচ্ছে এমন প্রশ্নে ইয়ামিন বলছে, বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত আর কখনোই প্রাইভেটকার চালাবে না। এই ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করে সে।
একাধিক শিশু-কিশোর বলে, শখের কারণে তারা আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চালাচ্ছে। বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেও যাচ্ছে শিশু-কিশোররা। মা-বাবার চোখ ফাঁকি দিয়েও মোটরসাইকেল-প্রাইভেটকার সংগ্রহ করে সড়কে নামছে তারা। মূলত শখ পূরণ করাই এই কারণ বলে শিশু-কিশোরদের দাবি।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল নোমান জানান, ‘বাবা বিদেশে থাকায় একশ্রেণির কিশোররা বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। মূলত বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা দিয়েই কেনা হচ্ছে মোটরসাইকেল। এই যান নিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শিশু-কিশোররা। তাদের কারণে বাড়ছে কিশোর গ্যাং। গণসচেনতা বৃদ্ধি করে এই অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব। এক্ষেত্রে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ‘প্রতিদিনই পুলিশ আলাদা জায়গায় ভাগ করে ট্রাফিক আইনে মামলা দিচ্ছে। কিন্তু আইন প্রয়োগ করে শিশু-কিশোরদের এমন অপরাধ থামানো সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে শিক্ষক, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।’
প্রতিনিধি/এএইচ



