নেত্রকোনায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বুধবার (১১ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিকুর রহমান ওরফে মিন্টু বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
বিজ্ঞাপন
মামলা এজাহার, পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া সেতুর দক্ষিণ পাশে অবস্থিত শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের কাছে একটি মোটরসাইকেলে তিন ব্যক্তি এসে নামেন। পরে পেট্রোল ঢেলে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রায় আধা মিনিটের মত বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ছাড়েন। পর দিন বুধবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা গেছে, তিনজন যুবক স্মৃতিস্তম্ভের কাছে এসে আগুন ধরিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। সেখানে বলতে শোনা যায়, তোমরা যারা হাদী হবা, হাতির মতোই মারা খাবা।, শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই।, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে।, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে স্লোগান শেষ করে যুবকেরা দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় এনপিপির নেতা মুশফিকুর রহমান বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হাফিজ রেশিমকে এক নম্বর আসামি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান রনিকে দুই নম্বর আসামি করা হয়। এ ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান খান অভ্র, সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান রনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আরেফিন কায়সার শুভ, জেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৌশিক রায় প্রমুখ নেতা-কর্মী রয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার বাদী মুশফিকুর রহমান বলেন, 'আমি একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়াকে মেনে নিতে পারিনি। তাই যারা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। আশা করছি পুলিশ আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচার করবে।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার প্রধান আসামি রেজাউল হাফিজের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রায় তিন মাস আগে রেজাউল হাফিজ ও স্ত্রী চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন সরকার বলেন, মামলায় উল্লেখিত আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/ এজে




