বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ঢাকা

দুই যুগ ধরে বন্ধ সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক সচল করতে ছয় দফা সুপারিশ

জেলা প্রতিনিধি, খুলনা
প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

দুই যুগ ধরে বন্ধ সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক সচল করতে ছয় দফা সুপারিশ
ছয় দফা সুপারিশ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-ফেড।

দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে অলস পড়ে আছে খুলনার সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক। ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এই পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সচল করতে প্রয়োজন মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। অথচ এটি পড়ে আছে অবহেলায়। কেন্দ্রটি সচল করতে ছয় দফা সুপারিশ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-ফেড।

বুধবার (১০ জুন) খুলনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ৬ সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ, সোলার পার্কের স্থাপনার ছাদের বাকি জায়গা ও পুকুরের অংশবিশেষ এলাকায় সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, নগর ভবন ও নগরের বড় ভবনগুলোয় সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ভবন-মালিকদের উদ্বুদ্ধ ও প্রণোদনা দেয়াও, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের ধারাটি কার্যকরে কেডিএ যথাযথ ভূমিকা পালন এবং খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি-বান্ধব নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক আনোয়ারুল কাদির বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধবিগ্রহ ও ভূরাজনীতির কারণে তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় দেশে বিদ্যুৎ ও দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে। এই সংকট আমাদের চোখ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে বিদ্যুৎ খাতে স্বয়ম্ভরতা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। অথচ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ২০০৮ সালে ৪.৩৩ একর জমির ওপর নির্মিত দেশের অন্যতম এই সোলার পার্কটি কারিগরি ত্রুটি ও তার চুরির কারণে ২০১২ সাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পার্কটির টেকসই আধুনিকায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কারিগরি ও আর্থিক পরিকল্পনা পেশ করা হয়।

ফেড জানায়, পার্কের অব্যবহৃত ছাদ এবং পুকুরের ৩০ শতাংশ জায়গা ব্যবহার করে মোট ৩৩৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এর মধ্যে ছাদে ৪৫ কিলোওয়াট এবং পুকুরে ২৯০ কিলোওয়াট ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে।


বিজ্ঞাপন


লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, নতুন প্যানেল ও সংস্কার বাবদ প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। ওপেক্স মডেলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালনা করলে মাত্র ৫ বছরেই খুলনা সিটি করপোরেশনের পুরো বিনিয়োগ উসুল হবে এবং বাকি ১৫ বছর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ মিলবে। এছাড়া বন্ধ থাকা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সরকারি বিভিন্ন অধিদফতরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চালু করে দক্ষ জনবল তৈরি ও কেসিসির আয় বাড়ানো সম্ভব।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সোলার সিস্টেম চালু করে সফলতার উদাহরণ তৈরি করেছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে কেসিসি প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

একইসঙ্গে নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনে কেডিএকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। খুলনাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে অবিলম্বে এই পার্কটি সচল করাসহ ৬ দফা দাবি জানায় সংগঠনটি।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর