সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ঢাকা

বান্দরবানে হচ্ছে আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব, মিলবে মানসম্পন্ন চারা

জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান
প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

শেয়ার করুন:

বান্দরবানে হচ্ছে আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব, মিলবে মানসম্পন্ন চারা
বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারে নির্মিত অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব।

বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারে নির্মাণ করা হচ্ছে অত্যাধুনিক টিস্যুকালচার ল্যাব। ল্যাবটির কার্যক্রম শুরু হলে মাতৃগুণাগুন বজায় রেখে স্বল্প সময়ে এক সঙ্গে বিপুল পরিমাণ রোগবালাই মুক্ত ও মান সম্মত ফলদ, বনজ ও বিভিন্ন ফুলের চারা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ আশেপাশের জেলার কৃষকদের চারা চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

সংংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের টিস্যুকালচার ল্যাব স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে পাঁচটি টিস্যু কালচার ল্যাব নির্মাণ করা হচ্ছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে বান্দরবানে।


বিজ্ঞাপন


82a211a9-24d5-476d-8f4e-7aacb0f97f5c

হর্টিকালচার সেন্টারের অফিস সূত্রে জানা যায়, সাড়ে ১৬ কোটি টাকায় নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের নিচতলায় থাকবে প্রশাসনিক অফিস এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় স্থাপন করা হবে আন্তর্জাতিক মানের টিস্যুকালচার ল্যাব। এছাড়া কৃষকদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি আধুনিক হলরুমও থাকবে।

আরও জানা যায়, বর্তমানে চারা উৎপাদনের জন্য বীজ, কলম কিংবা অন্যান্য প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে মাতৃ গাছের টিস্যু ব্যবহার করে অল্পসময়ে, কম খরচে এবং অধিক পরিমাণে মানসম্মত চারা উৎপাদন করা যাবে। এতে কৃষকরা সহজে প্রয়োজনীয় চারা পাবেন এবং চারার দামও কমে আসবে। অতীতে অনেক সময় কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী হাজার হাজার চারা সরবরাহ করা সম্ভব হতো না। তবে ল্যাবটি চালু হলে সেই সীমাবদ্ধতা দূর হবে। একই সঙ্গে মাতৃগাছের বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রেখে রোগবালাইমুক্ত চারা উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

300d8efa-3b9c-41d6-9743-1f887288d367


বিজ্ঞাপন


রাজবিলা ইউনিয়নের কৃষক উমংসিং মারমা বলেন, বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন গাছের চারা উৎপাদন করা হবে। এতে করে স্বল্পদামে, রোগবালাই মুক্ত উন্নত চারা পাওয়া যাবে। এতে কৃষকরা উপকৃত হবেন।

বান্দরবান বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ লিটন দেবনাথ ঢাকা মেইলকে জানান, এই ল্যাব থেকে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষকরাও উপকৃত হবেন। কৃষিখাতে এটি নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির টেন্ডার ও তদারকি ঢাকা থেকে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক নিয়মিত পরিদর্শন করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও নির্মাণ কাজের গুনগতমান নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

16ee1d3c-97b1-4fda-9fa5-7547526d1ffd

তিনি জানান, ল্যাব নির্মাণ কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলতিবছরের আগস্ট মাসের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ল্যাব টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে চলতি বছরেই ল্যাবটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তার মতে, আধুনিক এই টিস্যু কালচার ল্যাব চালু হলে পার্বত্য অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ, উন্নত জাতের চারা সহজলভ্য করা এবং কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর