নেত্রকোনার কৈলাটি ইউনিয়নে পাঁচ বছর বয়সী শিশু জান্নাত আক্তার হত্যার এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করা না যাওয়ায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
নিহত জান্নাত আক্তার হুগলি জসিউড়া গ্রামের আসাদ মিয়ার মেয়ে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে বিকেলে বাড়ির উঠানে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল জান্নাত। একপর্যায়ে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
নিখোঁজের দুই দিন পর ৬ মে সকালে বাড়ির পেছনে প্রায় ৩০০ গজ দূরে একটি ধানখেতের আলে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের বিভিন্ন অংশ, একটি পা এবং মাথার কিছু অংশ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর জান্নাতের বাবা আসাদ মিয়া বাদী হয়ে প্রতিবেশী মো. মজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার তদন্ত চলমান থাকলেও এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন বা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
নিহত শিশুর বাবা আসাদ মিয়া বলেন, আমার মেয়েকে তো আর ফিরে পাব না। কিন্তু যারা আমার নিষ্পাপ সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। মামলার প্রধান আসামিকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। তাকে আটক করা গেলে হয়তো ঘটনার অনেক তথ্য বেরিয়ে আসত।
বিজ্ঞাপন
শিশুটির আত্মীয় ও পাশের সনুড়া গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ আমানুল হক বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এতদিন পার হয়ে গেলেও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত না হওয়ায় আমরা হতাশ। দ্রুত তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আশা করছি, শিগগিরই মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
প্রতিনিধি/জেবি




