মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ঘটনাস্থলে ক্যামেরা হাতে, পরে মামলার আসামি—বিতর্কে ডামুড্যার ঘটনা

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

ঘটনাস্থলে ক্যামেরা হাতে, পরে মামলার আসামি—বিতর্কে ডামুড্যার ঘটনা

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করেছিলেন। সেটি ছিল একজন সাংবাদিক হিসেবে তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ। কিন্তু সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই মামলার আসামির তালিকায় উঠে আসে তার নাম। শরীয়তপুরের ডামুড্যায় এমন ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক।

ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর হামলার ঘটনায় করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় স্টার নিউজের শরীয়তপুর প্রতিনিধি মিরাজ সিকদারকে আসামি করা হয়েছে। সাংবাদিক মিরাজ সিকদারের দাবি, তিনি হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন মাত্র। পূর্বের সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


রোববার সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর সময় প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। পরে তাকে প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার পর সোমবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত, ডামুড্যায় একটি মামলা করেন প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮ থেকে ৯ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। মামলার চার নম্বর আসামি করা হয়েছে সাংবাদিক মিরাজ সিকদারকে।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন, আশিক বেপারী, সাহিন মাদবর, মিঠু শিকদার, শাহ আলম, ইপ্তি সরদার ও আলিফ সিকদারসহ আরও কয়েকজন।

তবে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় সাংবাদিক মিরাজ সিকদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তিনি ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন। একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে ঘটনার চিত্র সংগ্রহ করছিলেন বলেই তাদের দাবি।


বিজ্ঞাপন


নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে মিরাজ সিকদার বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভিডিও ধারণ করেছি। হামলা বা চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এর আগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। সেই কারণে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি বিশ্বাস করি, সুষ্ঠু তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।

সাংবাদিককে আসামি করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিন বলেন, কোনো সাংবাদিক যদি সংবাদ সংগ্রহের সময় মামলার আসামি হয়ে যান, তাহলে সেটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্ন তৈরি করে। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।

তবে মামলার বাদী প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার সাংবাদিক মিরাজ সিকদারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, হামলার ঘটনায় মিরাজ সিকদার সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ঘটনার নেপথ্যে তার ভূমিকা রয়েছে। এমনকি তাকে ঘটনার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলার কাগজপত্র এখনো থানায় পৌঁছেনি। কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটি ঘিরে ডামুড্যা উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা ও মতবিনিময়। একদিকে সাংবাদিকের দাবি, অন্যদিকে বাদীর অভিযোগ—দুই পক্ষের বিপরীত অবস্থানের কারণে বিষয়টি এখন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা এবং মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতাও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

প্রতিনিধি/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর