মানিকগঞ্জে রেজিয়া বেগম (৯৫) নামের এক বৃদ্ধা মাকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে মেয়ে রোকেয়া বেগমের (৬০) বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের মধ্যধুসুরিয়া গ্রামে।
বিজ্ঞাপন
নিহত রেজিয়া বেগম ওই গ্রামের মৃত সোবহানের স্ত্রী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হরিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, নিহত রেজিয়া বেগমের মেয়ে রোকেয়া বেগমের প্রায় ২৪ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এর পর থেকে রোকেয়া বেগম মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। বিবাহ বিচ্ছেদের পর এক ছেলে সন্তান নিয়ে রোকেয়া বেগম বাবার বাড়িতে তার মা রেজিয়া বেগমের সঙ্গেই থাকতেন। মা-মেয়ের মধ্য ভালো সম্পর্ক ছিল। আজ সকালে হঠাৎ করে রোকেয়া বেগম তার মাকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ভাতিজা রাসেলকে ডেকে বলেন তোর দাদি মারা গেছেন। বাড়ির লোকজন ঘরের ভেতর গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত রেজিয়া বেগমের মরদেহ পরে রয়েছে। নিহতের পাশেই পড়ে ছিল রক্ত মাখা ধারালো বঁটি। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

বিজ্ঞাপন
নিহতের নাতি রাসেল জানান, আমার ফুপু তার মাকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তাদের ডাকাডাকি করেন। আমি এগিয়ে গেলে আমাকে বলে তোর দাদি মারা গেছে পুলিশকে খবর দে।
নিহতের প্রতিবেশী মহিউদ্দিন খান মঞ্জু বলেন, আমার পাশের বাড়ির মানসিক ভারসাম্যহীন এক মেয়ে তার মাকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। আমরা কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে তাদের বাড়িতে যাই। পরে ঘটনাটি তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে থেকে শুনে পুলিশকে খবর দেই। তবে ভারসাম্যহীন মেয়ে রোকেয়া বেগম কারো সঙ্গে পাগলামি বা কারো ক্ষতি করেনি। আজ এমনটা করল কেন বুঝলাম না।
এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, আমরা ঘরের ভেতর থেকে বৃদ্ধা রেজিয়া বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। এবং নিহতের মেয়ে রোকেয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
প্রতিনিধি/এসএস




