পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে আবাদ শুরু হয়েছে ম্যাক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার বিখ্যাত ফল অ্যাভোকাডোর। পুষ্টিগুণে ভরপুর ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন এই ফল চাষে সফলতা পাওয়ায় জেলার কৃষক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই অঞ্চলের অনুকূল আবহাওয়া, উঁচু-নিচু ভূমি ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা অ্যাভোকাডো চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এ ফলকে বান্দরবানের কৃষিতে একটি নতুন সম্ভাবনাময় সংযোজন হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
বিজ্ঞাপন
জানা যায়, অ্যাভোকাডো ফল বিশ্বজুড়ে “সুপারফুড” হিসেবে পরিচিত। এতে রয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত অসম্পৃক্ত চর্বি, ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, ওজন ব্যবস্থাপনা এবং ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় অ্যাভোকাডোর উপকারিতা নিয়ে পুষ্টিবিদদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। ফলে দেশে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের এই ফল বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। দেশে এখনও সীমিত পরিসরে এর চাষ হলেও বান্দরবানে কয়েকজন কৃষক ও উদ্যোক্তা পরীক্ষামূলকভাবে গাছ রোপণ করে ইতিবাচক ফলাফল পাচ্ছেন। সেই সফলতার ধারাবাহিকতায় এখন বাণিজ্যিকভাবে অ্যাভোকাডো বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছেন অনেকেই।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে অনেকেই অ্যাভোকাডো গাছ রোপণ করেছেন। কিছু বাগানের গাছে ফল ধরতে শুরু করেছে এবং স্থানীয় বাজারেও সীমিত পরিসরে বিক্রি হচ্ছে। দেশের বড় বড় হোটেল রেস্তোরাঁ ও শপিং মলে অ্যাভোকাডোর চাহিদা বাড়তে থাকায় কৃষকরা এটিকে লাভজনক ফল হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বিজ্ঞাপন

অন্যান্য প্রচলিত ফলের তুলনায় অ্যাভোকাডোর বাজারমূল্য অনেক বেশি। একটি পরিপক্ব গাছ থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফল পাওয়া যায়। বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা উন্নত হলে এবং মানসম্মত চারা সহজলভ্য হলে এ ফল চাষ থেকে ভালো মুনাফা অর্জন সম্ভব হবে বলে জানান তারা।
রোয়াংছড়ি বেতছড়া এলাকার বাসিন্দা রোমিও মারমা বলেন, গত ৪ বছর আগে ঢাকার আগারগাঁও বৃক্ষ মেলা থেকে শখ করে ৭শ টাকা দরে ১২টি আ্যভোকাডো গাছের চারা এনে রোপণ করেছিলেন। যেখানে ৭টি গাছেই ফলন এসেছে। এমনকি একটি গাছেই ১৫-২০ কেজি ফলন যাওয়া যাবে। এছাড়া এবছর আরও ১০০ অ্যাভোকাডো গাছের চারা লাগিয়েছেন তিনি।
দীপ্ত এগ্রোর মালিক ইফতেখার সেলিম অগ্নি জানান, বান্দরবানের নাইক্ষ্যাংছড়ি উপজেলার জারুলিয়া এলাকায় ১০০ একর জমিতে মালটা-কমলা, ১২ মাসি সজনে, কাজুবাদাম ও চুইঝালসহ নানা ফলের আবাদ করেছেন। ৪ বছর আগে একই সঙ্গে এক হাজার ইন্ডিয়ান অ্যাভাকাডো গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। যার মধ্যে চলতি বছর প্রায় ২শ এর অধিক গাছে আশানুরূপ ফলন এসেছে। যা আগামী ২ মাস পর হারভেস্ট করার উপযোগী হবে। তবে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন উচ্চমানের হোটেল-রেস্তোরাঁ ও সুপারমলসহ অনেক আগ্রহী ক্রেতারা কেনার জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এক সময় জেলার অধিকাংশ কৃষক শুধুমাত্র জুম চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ড্রাগন, মাল্টা, কমলা, কফি, বিদেশি বিভিন্ন জাতের আম, রামভুটান, অ্যাভোকাডোসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি উচ্চ মূল্যের ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এতে এই অঞ্চলটি এখন ধীরে ধীরে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার যুগে যুক্ত হচ্ছে।
বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিশুক চাকমা ঢাকা মেইলকে বলেন, বান্দরবানের মাটি ও আবহাওয়া কৃষি আবাদের অনুকূলে হওয়ায় জেলায় গতানুগতিক ফসলের পাশাপাশি উচ্চ মূল্য বা বিদেশি ফসলের আবাদ হচ্ছে এখন। অ্যাভোকাডো ফলের আবাদ এখনো পর্যন্ত ব্যাপক আকারে না হওয়ায় এই ফসলটিকে অন্যান্য ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে চাষিদের যেকোনো প্রকার পরামর্শ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
প্রতিনিধি/টিবি




