সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ঢাকা

গোসাইরহাটের গরম মাটি: প্রাথমিক তদন্তে গ্যাসের অস্তিত্ব পেল না বাপেক্স

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

গোসাইরহাটের গরম মাটি: প্রাথমিক তদন্তে গ্যাসের অস্তিত্ব পেল না বাপেক্স

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে রহস্যজনকভাবে মাটি গরম হয়ে ধোঁয়া ওঠার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় বাড়লেও প্রাথমিক তদন্তে সেখানে কোনো ধরনের গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বাপেক্সের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানায়। দলের নেতৃত্বে ছিলেন বাপেক্সের ভূতত্ত্ব ও ভূতাত্ত্বিক বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক ইমামুল ইসলাম।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার থেকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি নির্দিষ্ট স্থানে মাটি স্পর্শ করলেই অস্বাভাবিক তাপ অনুভূত হতে থাকে। পরে ওই স্থান থেকে হালকা ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা দেয়। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ঘটনাস্থল দেখতে ভিড় করছেন।

3a92ae0e-63e2-4a60-9ccf-1b6a09affe96

ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তারা মাটিতে গর্ত করে পানি ঢেলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল না মেলায় বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন দেখা দেয়। পরে বাপেক্সকে বিষয়টি অবহিত করা হলে সংস্থাটির একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়।

পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের ভূতত্ত্ব ও ভূতাত্ত্বিক বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক ইমামুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে অগ্নিশিখা পরীক্ষাসহ কয়েকটি প্রাথমিক নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। এসব পরীক্ষায় কোনো ধরনের গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত গ্যাস নির্গমনের সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


3df33870-5d75-45d9-b0dc-0aae976b3a97

তিনি বলেন, তবে মাটি গরম হওয়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগের স্পার্ক থেকে তাপ উৎপন্ন হতে পারে। আবার নির্মাণকাজে ব্যবহৃত রঙ, রাসায়নিক বর্জ্য বা পুরোনো ময়লা-আবর্জনা থেকে সৃষ্ট রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণেও এমন তাপের সৃষ্টি হতে পারে।

ইমামুল ইসলাম আরও জানান, ঘটনাস্থলের প্রায় চার ফুট গভীর থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনাগুলো পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পর এ ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

7adaaa3c-b8fb-4a99-b0cb-8ee20ccaee0a

এদিকে রহস্যময় এ ঘটনার সঠিক কারণ জানতে স্থানীয় বাসিন্দারা অধীর আগ্রহে ল্যাব পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। গরম মাটি ও ধোঁয়া ওঠার ঘটনা নিয়ে এলাকায় এখনও নানা আলোচনা-সমালোচনা ও জল্পনা-কল্পনা চলছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর