রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

মানববন্ধনে মনগড়া অভিযোগ, সম্মানহানির ঘটনায় প্রতিবাদ

জেলা প্রতিনিধি, নড়াইল
প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

মানববন্ধনে মনগড়া অভিযোগ, সম্মানহানির ঘটনায় প্রতিবাদ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা মৌজার একটি জমিকে কেন্দ্র করে গত (২৪ মে) উপজেলা পরিষদ গেটসংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে কয়েকজন বক্তা সরকারি রাস্তা দখল, জাল কাগজপত্র তৈরি, প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ এবং সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ব্যারিস্টার দেদার-ই-এলাহী সজীব ও শাহজাহান শেখ কুটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট জমি ৯০ নম্বর লক্ষীপাশা মৌজার সাবেক ২৬১ নম্বর দাগভুক্ত সম্পত্তি, যা দীর্ঘ বিচারিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বৈধভাবে অবমুক্ত ও নামজারিকৃত হয়েছে। এ বিষয়ে নিম্ন আদালত, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল, আপিল আদালত এবং জেলা প্রশাসনের একাধিক রায় ও আদেশ বিদ্যমান রয়েছে। জমির নামে সরকারি খাজনা ও ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট খতিয়ান, পরচা, নামজারি ও দাখিলাসহ প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র হালনাগাদ রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


মানববন্ধনে নিজের নাম জড়ানো প্রসঙ্গে শাহজাহান শেখ কুটি বলেন, আমার জন্ম ১৯৮১ সালে। অথচ যে কাগজপত্র ও ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলো আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ব্যারিস্টার সজীবের বাবা মরহুম অ্যাডভোকেট ওমর ফারুকের ব্যক্তিগত মোকদ্দমা সংক্রান্ত বিষয়। ১৯৮৫ বা ১৯৮৬ সালে আমার বয়সই ছিল খুবই কম। সেই সময়ের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে অভিযোগ তোলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

অন্যদিকে ব্যারিস্টার দেদার-ই-এলাহী (সজীব) বলেন, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আদালত, ট্রাইব্যুনাল এবং প্রশাসনের একাধিক সিদ্ধান্ত, রায় ও সরকারি নথি আমাদের পক্ষে রয়েছে। তারপরও কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়া জনসম্মুখে আমাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, জনৈক সুশান্ত বিশ্বাস ব্যক্তিগত স্বার্থে বিষয়টিকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং একে কেন্দ্র করে সামাজিক অস্থিরতা, দীর্ঘ অশান্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। এতে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, বরং এলাকায় অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা ও বিভক্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আমি বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত ও একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন মহলের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

প্রতিবাদকারীরা বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, আদালতের নথি এবং প্রশাসনিক রেকর্ড যাচাই করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।


বিজ্ঞাপন


প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর