একচালা টিনের ঘর। বাইরে তিনটি সিসি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক চলত কড়া নজরদারি। তবে তা বাইরের অপরাধ ঠেকাতে নয়, বরং পুলিশের গতিবিধি লক্ষ্য রাখতে! বাড়ির ভেতরে পুরোদমে চলে মাদক সেবন আর বেচাকেনার আসর। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে প্রযুক্তির এমন চতুর ব্যবহারও শেষ রক্ষা করতে পারল না। অবশেষে পুলিশের অভিযানে ধরা পড়লেন মাদক কারবারি চক্রের এক নারী সদস্য। এ সময় কৌশলে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় তার স্বামী।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (৬ জুন) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়ার জুবলীরোডে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ টাকাসহ শিপা বেগম (৩৯) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় শিপা বেগমের স্বামী মো. জিয়ামিন (৪২) পালিয়ে যায়। অভিযানকালে পুলিশ ১টি সিসি ক্যামেরার ভিডিও রেকর্ডার ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। এভাবেই সিসি ক্যামেরার আড়ালে চলা মাদক কারবারের পর্দা ফাঁস করল পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত নয়টার দিকে পুলিশের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের মধ্যপাড়া শান্তিবাগের জুবলী রোড এলাকার মাদক কারবারিজিয়ামিনের বাড়িতে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় তল্লাশি চালিয়ে টিনের ঘর থেকে ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদকদ্রব্য বিক্রির নগদ ২১ হাজার ৫২০ টাকা, একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও রেকর্ডার এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেন।
এ সময় মাদক কারবারি শিপা বেগমকে গ্রেফতার করা হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার স্বামী মো. জিয়ামিন কৌশলে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মাদক কারবারি দম্পতির বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনকে নজরদারিতে রাখার জন্য বাড়ির বাইরে তিনটি সিসি ক্যামেরা লাগানো ছিল। ভেতর থেকে সার্বক্ষণিক চলত বাইরে পুলিশ আসছে কি না সেই গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য। কিন্তু ভেতরে চলত পুরোদমে মাদকের কারবার। অভিনব পদ্ধতিতে এই দম্পতি এসব করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি শিপা বেগমকে গ্রেফতার করলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার স্বামী মো. জিয়ামিন কৌশলে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পলাতক জিয়ামিনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। আজ রোববার (৭ জুন) সকালে শিপা বেগমকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




