নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের প্রতিবাদে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজিত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভা শেষে ফেরার পথে নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিমের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সহায়তায় এই হামলা চালানো হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৫-৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
হামলায় আহতদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হৃদয়, মোহাম্মদ রবিন এবং মোহাম্মাদ নিহাদের নাম জানা গেছে। গুরুতর আহত দুজনকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে শুক্রবার বিকেলে নোয়ান্নই ইউনিয়ন বাঁধেরহাটে ছাত্রলীগ, যুবলীগ একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, ওই মিছিলের মাধ্যমে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। এরই প্রতিবাদে এবং এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দাবিতে শনিবার বিকেলে বাঁধেরহাট বাজারে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান অভিযোগ করে বলেন, বাঁধেরহাটের শান্তিপূর্ণ প্রোগ্রাম শেষ করে ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়নের সেলিম চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আমাদের বহরে থাকা প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেলের মধ্যে ১৪-১৫টি হোন্ডা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং ৪-৫টি হোন্ডা তারা ছিনিয়ে রেখে দিয়েছে। হামলায় আমাদের ৫-৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে যুবদল সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসন ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা কিংবা তৎপরতা কম থাকার কারণেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও কিশোর গ্যাং এলাকায় নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। পুলিশ যদি এখনই এদের নির্মূল না করে, তবে প্রতিটি এলাকায় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে।
তিনি অনতিবিলম্বে এলাকায় দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকারী, মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত গডফাদার এবং ছাত্রলীগের এসব নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে কালাদরাপ ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিনিধি/এসএস




