রংপুরে ১০ দিনের ব্যবধানে পুকুর ও নদীর পানিতে ডুবে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আটজন শিশু ও তিনজন কিশোর রয়েছে। রংপুর জেলার মধ্যে পানিতে ডুবে শিশু মারা গেছে সবচেয়ে বেশি পীরগাছা উপজেলায়। এই উপজেলায় তিন দিনের ব্যবধানে ছয় শিশু মারা গেছে। এছাড়া তারাগঞ্জে দুই কিশোর ও গংগাচড়ায় দুই শিশু মারা গেছে। অন্যদিকে রংপুর মহানগরীর মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারা গেছে।
পীরগাছা: আজ শনিবার (৬ জুন) পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের চওড়া মাসুয়া পাড়ায় পাঁচ বছরের এক শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। গতকাল শুক্রবার উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের নজর মাহমুদ এলাকায় সজিব মিয়ার ছেলে রাজীব মিয়া (৬) ও শাহজাহান মিয়ার মেয়ে সেনাতুল আক্তার (৪) মারা গেছে। এই দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জ্যাঠাতো ভাইবোন। এর আগে ৩ জুন বিকেলে উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের দিকটারী ও দাদন দোলাপাড়া এলাকায় সোহাগ (৪) ও আবিদ হাসান (৭) মারা যায়। সম্পর্কে তারা ফুপাতো ভাই। এছাড়াও একই দিনে শিশু ওয়াজেদ আলী নামে ১৪ মাসের শিশু লোকজনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশে বাঁশঝাড়ের নিচে জলাবদ্ধ জমিতে পড়ে মারা যায়।
বিজ্ঞাপন
গংগাচড়া: এ উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের মাজারেরপাড় এলাকায় গত ২৭ মে পানিতে ডুবে রুশা মনি (১৫) ও ছোট ভাই সাইফ (৫) নামে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।
তারাগঞ্জ: রংপুরের তারাগঞ্জে বন্ধুদের সঙ্গে যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নেমে অহিদ ইসলাম (১৫) ও মাসুদ রানার (১৬) নামে দুই কিশোর মারা গেছে। গত ২৯ মে দুপুরে ১২টার দিকে উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নে কায়িশাবাড়ি এলাকায় যমুনেশ্বরী নদীতে এ ঘটনা ঘটে। তাদের বাড়ি হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ডাঙ্গীরহাট তেলিপাড়া গ্রামে, তারা দুজনেই একে অপরের বন্ধু।
মহানগরের মধ্যে গত ৫ জুন শুক্রবার দুপুরে পানবাড়ি এলাকায় ঘাঘট নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে পানিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিহাব (২৬) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি নগরীর দর্শনা সূত্রাপুর এলাকায়।
প্রতি বছর দেশে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ নদীনালা, ডোবা-পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যাওয়া। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের একাকি ছেড়ে না দেওয়া, খেলার সময় সঠিক তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ সচেতন হলে এ ধরনের মৃত্যুর বড় একটি অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/ক.ম/




