রংপুরে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে থানায় আটক রেখে নির্যাতনের অভিযোগে এবার ওসি আজাদ রহমানসহ আরও ২ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় ওসিসহ মোট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ লাইনে ক্লোজড অন্যান্যরা হলেন— কনস্টেবল লিমা সরেন ও বাসুদেব, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং এসআই মাসুদ রানা।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগে নগরীর সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল। জিডিমূলে ওই যুগলকে উদ্ধারের পর বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় কোতয়ালী থানায় আনা হয়। পরে ওই যুগলের পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসা করতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। সেখানে লাভলু নামে এক নেতার ডাকে থানায় যান রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
তিনি থানায় গিয়ে দেখতে পান, এক পুলিশ সদস্য ওই যুগলকে মারধর করছেন। রাকিবুল বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকেও মারধর করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত ও আহত হন।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। অবস্থা বেগতিক দেখে থানার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় গেটের ভেতর থেকেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাকিবুল ইসলাম। তখন তার শরীরে রক্তের দাগ ও আঘাতের কারণে একটি চোখ ফুলে থাকতে দেখা যায়।
রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, উদ্ধার করা প্রেমিক যুগলকে থানার ভেতরে এক পুলিশ সদস্য মারধর করছিলেন। বিষয়টি দলের এক নেতাকে জানাতে পকেট থেকে তিনি ফোন বের করার সঙ্গে সঙ্গে ওসি, এসআই ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন এবং বেধড়ক মারধর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এ সময় বারবার তাদের অনুরোধ করেছি, পরিচয় দিয়েছি যে আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব, বিএনপির একজন কর্মী। আমি বিগত ১৭ বছর নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তারপরেও তারা আমাকে মেরে রক্তাক্ত করেছে। আমার ব্যবহৃত ফোন দুইটা কেড়ে নিয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে, খবর পেয়ে থানায় যান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু। পরে মারধরের শিকার ওই নেতাকে হাসপাতালে পাঠান তিনি। এরপরে রাত ১১টার দিকে থানা থেকে ওই যুগলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বুধবার রাতেই ৩ জনকে এবং আজ বৃহস্পতিবার ওসিসহ ২ জনকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়। সেই সঙ্গে তদন্ত কমিটির তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে।
এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, থানার ভেতরে মারধরের ঘটনার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/টিবি




