বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ঢাকা

নিখোঁজের ২ দিন পর ঘরের মেঝে খুঁড়ে মিলল মায়ের লাশ, ছেলে পলাতক

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

নিখোঁজের ২ দিন পর ঘরের মেঝে খুঁড়ে মিলল মায়ের লাশ, ছেলে পলাতক
নিখোঁজের ২ দিন পর ঘরের মেঝে খুঁড়ে মিলল মায়ের লাশ, ছেলে পলাতক

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় গর্ভধারিণী মাকে মাথায় আঘাত করে হত্যার পর ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত ছেলে জুয়েল মিয়া (৪০) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের পুত্রবধূ ও নাতিকে থানায় নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


বিজ্ঞাপন


কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের নাম মারুফা বেগম (৬০)। তিনি কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১ জুন) সর্বশেষ মারুফা বেগমকে দেখা যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার কোনো এক সময় তাকে হত্যা করে ঘরের মেঝের নিচে পুঁতে রাখা হয়।

নিহতের ছেলে লাভিন মিয়া জানান, তিন ভাইয়ের মধ্যে একজন মারা গেছেন। অপর ভাই জুয়েল মিয়া বাড়িতে থাকতেন এবং তিনি নিজে ঢাকায় থাকেন। ঈদের ছুটিতে গত শনিবার (৩০ মে) বাড়িতে আসেন তিনি। একই দিন ভাইয়ের ওপর রাগ করে ভাবি তার ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরদিন রোববার তিনি তার মাকে নিজের ঘরে থাকার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি জলঢাকার দুন্দিবাড়ি এলাকায় যান। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বাড়িতে ফিরে মাকে খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন লাভিন মিয়া। সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার স্ত্রী বাড়িতে এসে ঘরের বিছানার তোষক ঠিক করার সময় রক্ত দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি ঘরে গিয়ে রক্ত দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জুয়েল মিয়ার ব্যবহৃত ঘরের মেঝেতে ফাটল ও কাঁচা মাটির চিহ্ন দেখতে পান তারা। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয়দের খবর দেওয়া হয়। স্থানীয়রাও একই বিষয় লক্ষ্য করে পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।


বিজ্ঞাপন


a8c2f876-626c-4400-b8ed-b0f043c18e4b

পুলিশ সূত্র জানায়, মরদেহের মাথার সামনের বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করার পর ঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশ পুঁতে রাখা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ থানায় নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মরদেহ জেলা মর্গে পাঠানো হবে।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস জানান, অভিযুক্ত জুয়েল মিয়া পলাতক রয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম (৩৫) ও ছেলে গোলাম রাব্বীকে (১৮) থানায় আনা হয়েছে।

 

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছেলে জুয়েল মিয়াই তার মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখে। নিহতের ছোট ছেলে বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের জন্য আবেদন করেছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর