বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ঢাকা

লব চন্দ্রের রহস্যময় মৃত্যু, পরিবার ও এনজিও সংস্থার পাল্টাপাল্টি দাবি

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৩৩ এএম

শেয়ার করুন:

লব চন্দ্রের রহস্যময় মৃত্যু, পরিবার ও এনজিও সংস্থার পাল্টাপাল্টি দাবি
লব চন্দ্র দাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ‘পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র’ নামের একটি এনজিও সংস্থার কমিউনিটি ম্যানেজার লব চন্দ্র দাসের (৩০) রহস্যময় মৃত্যু হয়েছে। 

তিনি ধানখেতের পোঁকা মারার তরল কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে পরিবারের দাবি, অফিসে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (৩ জুন) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে লব চন্দ্র দাসের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ। 

এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত লব চন্দ্র দাস জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের হরিপদ চন্দ্র দাসের ছেলে। 

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পশ্চিম মেড্ডা শরিফপুর এলাকার আব্দুল্লাহ ভবনে অবস্থিত পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান শাখা অফিসে কমিউনিটি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


বিজ্ঞাপন


নিহতের বাবা হরিপদ চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে লব চন্দ্র ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছিলেন। গত ১ জুন প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অফিসের ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার হিসাব মিলছে না। 

এ ঘটনায় লব চন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা বাঞ্ছারামপুর এরিয়া অফিসে গিয়ে ১ লাখ টাকা জমা দেন এবং বাকি টাকা সাত দিনের মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দেন। 

তার দাবি, টাকা দেওয়ার পরও ছেলেকে অফিস থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। পরদিন বিকেলে অফিস থেকে ফোন করে জানানো হয়, লব চন্দ্র অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পরে সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর খবর আসে। 

পরিবারের সন্দেহ, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তিনি।

নিহতের ছোট ভাই কৌশিক চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা দ্রুত টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেন। পরে ধারদেনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়। 

বাকি ৯০ হাজার টাকা পরে পরিশোধের জন্য সময়ও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই ঘটনার পর থেকেই বড় ভাইয়ের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরদিন অসুস্থতার খবর জানানো হলেও পরে মৃত্যুর সংবাদ আসে।

এদিকে পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের হিসাবরক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, দুপুরে অফিসের পাশের একটি কক্ষে বিষপান করেন লব চন্দ্র। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাখার এরিয়া ম্যানেজার মন্টু ইসলাম জানান, লব চন্দ্র প্রায় ১৫৫ জন গ্রাহকের কিস্তির টাকা সংগ্রহ করতেন। 

হিসাব মিলাতে গিয়ে টাকার গড়মিল ধরা পড়ে। পরে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা টাকা লব চন্দ্রের কাছে জমা দেওয়ার কথা জানান।

তিনি বলেন, লব চন্দ্র দাস লিখিতভাবে নিজের ভুল স্বীকার করেছিলেন। বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলেও তিনি পরিবারের কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা পাননি। হতাশাগ্রস্ত হয়েই হয়তো তিনি বিষপান করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষপানে এক এনজিও কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। 

পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর