বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ঢাকা

বৃক্ষরোপণ সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে: বাসস চেয়ারম্যান

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

বৃক্ষরোপণ সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে: বাসস চেয়ারম্যান

খুলনায় 'হরিদাশকাটি স্বাধীনতা সংসদ'-এর উদ্যোগে বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সকালে পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের হরিদাশকাটি ফুটবল মাঠে ফলদ বৃক্ষ রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন। 

হরিদাশকাটি স্বাধীনতা সংসদের সভাপতি শেখ আল-এহসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহরিয়ার সেলিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন- স্বাধীনতা সংসদের উপদেষ্টা শেখ আল এমরান, ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউপি সদস্য শেখ আব্দুল গফুর, শেখ আনিসুর রহমান শিবলু, শেখ হারুন, কমিটি ও ক্লাব সদস্য উৎপল দে, তপন কর, খান জাবেদ, শেখ সাহান আব্দুল্লাহ, হাসান আব্দুল্লাহ, শেখ তুহিন, শেখ মিজান, শেখ সোয়েব, খান মোবারেক হোসেন, মৃদুল, মুশফিক, রাসেল, সাকিব, শহিদুল, বব  রকি, মামুন, আশিক, রায়হান, মাসুম, আপন প্রমুখ। 


বিজ্ঞাপন


বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ উদ্বোধনের পূর্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনোয়ার আলদীন বলেন, বৃক্ষরোপণ সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।বৃক্ষ আমাদের অকৃত্রিম অকৃপণ বান্ধব।বৃক্ষ আমাদেরকে ছায়া দেয়। মায়া দেয় । প্রশস্তি দেয় । অক্সিজেন দেয়। বাস্তুতন্ত্রের মূল ভিত্তি স্থাপন করে। একটি পূর্ণবয়স্ক বৃক্ষ দশজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের অক্সিজেন সরবরাহ করে। গবেষকরা বলছেন,৫০ বছরী একটি বৃক্ষের অবদান আর্থিক মূল্যে প্রায় এক লাখ ৮৮ হাজার মার্কিন ডলার। 

আনোয়ার আলদীন বলেন, বৃক্ষ যে শুধু আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেই সাহায্য করে তা কিন্তু নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি কাজের সঙ্গে বৃক্ষ কোনো না কোনোভাবে জড়িত। জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার, নদী-খাল দখল ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে  বহু প্রাণী, উদ্ভিদ ও অণুজীব হারিয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় গাছ শুধু পরিবেশ রক্ষার উপাদান নয়; এটি আমাদের টিকে থাকার নিরাপদ আশ্রয়। 

বাসস চেয়ারম্যান বলেন, ইসলামে বৃক্ষরোপণকে উত্তম ইবাদত বলা হয়েছে। ইসলামি পরিভাষায় যাকে সদকায়ে জারিয়া বলা হয়। তিনি বলেন,গাছপালা, বনভূমি-জীববৈচিত্র্য বিনাশ করে মানুষ কখনো আপন ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হওয়া মানে মানুষের বহুমুখী নিরাপত্তার বেস্টনীরও সংকুচিত হওয়া। জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে বাঁচাতে, পরিবেশকে বাঁচাতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ জগৎ গড়ে তুলতে আমাদের সকলকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গাছ লাগাতে হবে এবং কাটা গাছগুলোর বিপরীতে নতুন বৃক্ষরোপণ নিশ্চিত করতে হবে। 

প্রত্যেক বাড়িতে বেশি বেশি ফলদ-ঔষধি পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে আনোয়ার আলদীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশকে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিঘাত থেকে বাঁচাতে পাঁচ কোটি বৃক্ষ রোপণের যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন তা বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে দেশের প্রকৃতি-পরিবেশের চিত্র।  


বিজ্ঞাপন


অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শেখ আল-এহসান বলেন, হরিদাশকাটি স্বাধীনতা সংসদ দীর্ঘদিন ধরে গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছ বিতরণ, সড়কের পাশ ও ফেলে রাখা জমিতে গাছ লাগানো হবে। উপকূলীয় দক্ষিণ অঞ্চলকে জলবায়ুর অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে এ ধরনের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

ক.ম/ 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর