নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বরফভর্তি বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত এবং তার জেরে ওই শিক্ষার্থী অজ্ঞান হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. আজিমেল কদর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত ১ জুন এ সংক্রান্ত চিঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে খালিয়াজুরী উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে পৌঁছে। চিঠিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে দশ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা যায়, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৮ মে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। ঈদের ছুটির কারণে চিঠিটি পৌঁছাতে দেরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুগ্ধ তালুকদার (১১) মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের হানিফ তালুকদারের ছেলে। তার বাবা-মা ঢাকায় কর্মরত থাকায় সে স্থানীয় নানার বাড়িতে থেকে পার্শ্ববর্তী খালিয়াজুরী উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।
আর অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদ একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যালয়, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে দুপুরে বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করার সময় শিক্ষক কাউসার আহমেদ বরফভর্তি বোতল দিয়ে মুগ্ধর মাথায় আঘাত করলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে বাড়িতে নেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একাধিকবার জ্ঞান হারানো, বমি ও কান দিয়ে রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটে। পরে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
এ ঘটনায় পরদিন মুগ্ধর মামা মারুফ খান বাদী হয়ে শিক্ষক কাউসারের বিরুদ্ধে খালিয়াজুরী থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতে পরদিন পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। সেদিনই আদালত থেকে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়।
এদিকে ঘটনাটি তদন্ত করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। পরে তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় শিক্ষক কাউসারের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। পরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদ মারধরের কথা স্বীকার করলেও গুরুতর আঘাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী অতিরিক্ত দুষ্টুমি করায় শাসন করা হয়েছিল, খারাপ উদ্দেশে আঘাত করা হয়নি।
খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. আজিমেল কদর বলেন, তদন্তে শিক্ষার্থীকে আঘাত করার সত্যতা পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আজম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এখন কারণ দর্শানোসহ আরও কিছু প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, মামলার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রতিনিধি/এএইচ




