ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার একমাত্র আসামি হাসিব চৌধুরীকে (২১) রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ৮টা ৫ মিনিটে র্যাব গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর লালবাগ থানার পলাশীর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৩ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে র্যাব ১০ ফরিদপুর অফিস।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভুক্তভোগীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে হাসিব চৌধুরী। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ফরিদপুরের চরকমলাপুর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করে। এ সময় সে ঘটনার ভিডিও ও ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে সংরক্ষণ করে।
পরে ওই ভিডিও ও ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ভুক্তভোগী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্ত বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেফতারের জন্য র্যাব-১০ এর সহযোগিতা কামনা করলে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ৮টা ৫ মিনিটে র্যাব-১০ এর একটি অভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর লালবাগ থানার পলাশীর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত একমাত্র আসামি হাসিব চৌধুরীকে গ্রেফতার করে।
এসময় তার কাছ থেকে দু’টি স্মার্টফোন, দু’টি পরিচয়পত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চারটি এটিএম কার্ড এবং একটি ইলেকট্রিক ভ্যাপ জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি দীর্ঘদিন বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, ধর্ষণ ও সাইবারভিত্তিক অপরাধসহ সব অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রতিনিধি/এসএস




