ফুটবল বিশ্বে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ নতুন কিছু নয়। দুই দলের সমর্থকদের খুনসুটি, তর্ক-বিতর্ক কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প প্রায়ই আলোচনায় আসে। তবে শরীয়তপুরে এবার সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভিন্ন এক ঘটনায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। আর্জেন্টিনা সমর্থক এক তরুণীর বাসায় দেখা করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন ব্রাজিলের এক সমর্থক। পরে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে গেলে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া এলাকার বাঁগচী বাজারসংলগ্ন একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটির কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্র জানায়, রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তি রাতে পরিচিত এক তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে ওই এলাকায় যান। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাদের দুজনকে আটক করেন। পরে তাদের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল আমিন প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বললেও তরুণী দাবি করেন, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে।
একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। স্থানীয়দের দাবি, বিয়ের শর্তে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুহুল আমিন সদর উপজেলার আঁটিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। এছাড়া তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থনে বিভিন্ন পোস্ট করতে দেখা যায় তাকে। অপরদিকে আঁখি আক্তার নামে ওই তরুণী আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা ধরনের মন্তব্য ও হাস্যরস।
শরীয়তপুর ব্রাজিল সমর্থক ও ফ্যানস ক্লাবের সদস্য সালাউদ্দিন মুন্না বলেন, রুহুল আমিন গত বিশ্বকাপের পর থেকে আমাদের ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। পতাকা টানানোর জন্য নির্ধারিত চাঁদা না দেওয়ায় তাকে ক্লাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাই তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার আমাদের নয়।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা সমর্থক ও ফ্যানস ক্লাবের সদস্য আবিদ খান বলেন, ঘটনাটি আমরা শুনেছি। এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক আলোচনা চলছে। তবে এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়।
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, অবৈধ ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এলাকাবাসী ওই নারী-পুরুষকে একটি বাসা থেকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সমর্থকদের ঘিরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা এখন শরীয়তপুরজুড়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
প্রতিনিধি/এসএস




